চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ৬৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তবে, প্রতিবেদনে পিবিআইয়ের সাবেক প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক সিএমপি কমিশনার সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসি ওবায়দুল হক, মহসিনসহ ২৬ পুলিশ কর্মকর্তার হামলার প্রমাণ মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ তদন্তে শেষে পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পরিদর্শক সেয়দ মোহাম্মদ আহসানুল ইসলাম গত মার্চ মাসে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কফিল উদ্দিন নামে এক যুবক ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের ১৮৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে এ মামলা করেন।
মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত চট্টগ্রামের পিবিআই মেট্রো ইউনিটকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেন।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এখনো শুনানির তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি বলে আদালত সূত্র।
প্রতিবেদনে অপরাধ প্রমাণিত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনের নির্দেশনাসহ প্ররোচণার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাসহ বাদী কফিলকে মারধরের ঘটনায় সাবেক চসিক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিন, সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, নোমান আল মাহমুদ, যুবলীগ নেতা নুরুল আজম রনি, চসিকের পলাতক কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, আব্দুস সবুরসহ আরও ৬১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে পিবিআই।
প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা মামলার বাদী মো. কফিল উদ্দীনকে দিনমজুর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এতে বলা হয়, বাদী দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বাদী কফিল উদ্দীন ঘটনাস্থল তথা চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানাধীন নিউমার্কেট মোড়ের গোলচত্বর এলাকায় সচেতন নাগরিক হিসেবে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কফিল উদ্দিন যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও অস্ত্র ও মাদকের মামলা আছে। তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে জেলেও গেছেন।
মামলার রেজিস্ট্রারে তার নাম মো. আফছার ওরফে কফিল। কিন্তু, তার বিষয়ে আগের মামলার বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই প্রতিবেদন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আহসানুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এটি আমাদের তদন্তের বিষয় ছিল না। কফিল আন্দোলনে ছিলেন কি না, তিনি আহত হয়েছেন কি না, তার দাবি আদৌ সত্যি কি না, সেটি আমরা যাচাই করে প্রতিবেদন দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তদন্তে, ভিডিও ফুটেজ, ছবি, সংবাদের কপি ও প্রযুক্তির বিশ্লেষণে ঘটনাস্থলে ছিলেন কিন্তু এজাহারে নাম নেই এমন অনেককেই শনাক্ত করে আসামি করা হয়েছে। সুস্পষ্ট করে প্রতিবেদনে কার কী দায়, সেটি উল্লেখ করে আমরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’
এদিকে, যুবলীগ-ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে কফিল ডেইলি স্টারকে বলেন ‘বিবেকের তাড়নায় আন্দোলনে ছিলাম। সরকারদলীয় রাজনীতি করলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছিলাম কারণ রাজনীতিতে আমি বৈষম্যর শিকার, আমার পদ-পদবী ছিল না।’
