কয়েক মাস আগেও রদ্রিকে দলে ভেড়ানোর সম্ভাবনা খুব একটা জোরালো ছিল না। রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ নাকি এই ট্রান্সফারে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। এবার স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে দলে টানতে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় নেমেছে ইউরোপের অন্যতম সফল ক্লাবটি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর, আইভোরিয়ান তরুণ ইয়ান দিয়োমান্দের ট্রান্সফার প্রায় নিশ্চিত করার পর রিয়ালের প্রধান লক্ষ্য এখন ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রি। ৩০ বছর বয়সী এই তারকার সঙ্গে সিটির চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকলেও ভবিষ্যতে স্পেনে ফিরতে আগ্রহী বলে বিভিন্ন সময় ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
একাধিক সাক্ষাৎকারে রদ্রি জানিয়েছেন, অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক থাকলেও অতীতে সেখানে খেলার বিষয়টি রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পথে কোনো বাধা হবে না।
এর আগে পেরেজের সভাপতিত্বে রদ্রিকে দলে নেওয়ার বিষয়ে সবুজ সংকেত ছিল না বলেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল। এমনকি তার নাম সভাপতি নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী এনরিকে রিকেলমের পরিকল্পনার সঙ্গেও জড়িয়েছিল। তবে এবার সেই অবস্থান বদলেছে বলে জানা গেছে।
ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, দুই ক্লাবের মধ্যে মৌখিক আলোচনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর প্রথমবারের মতো এই ট্রান্সফারে সম্মতি দিয়েছেন পেরেজ।
তবে রিয়াল মাদ্রিদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, রদ্রির জন্য ৫০ থেকে ৬০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি খরচ করতে রাজি নয় লস ব্লাঙ্কোস।
অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি এখনই তাদের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারকে ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। নতুন কোচ এনজো মারেস্কা সম্প্রতি জানিয়েছেন, ছোট একটি অস্ত্রোপচার ও ছুটি শেষে রদ্রিকে নিয়েই নতুন মৌসুমের পরিকল্পনা করছেন তারা।
ইংল্যান্ডের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ধারণা, সিটির কঠোর অবস্থান মূলত দর-কষাকষির কৌশল। কারণ ইতোমধ্যেই তারা এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে প্রায় ১৩৫ মিলিয়ন ইউরোতে দলে ভিড়িয়েছে এবং ১৮ বছর বয়সী আয়ুব বুয়াদ্দিকেও দলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এরই মধ্যে রদ্রিকে নিয়ে আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। সাংবাদিক ওরিওল দোমেনেকের দাবি, ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ংয়ের চোটের পর শীর্ষ মানের একজন মিডফিল্ডারের খোঁজ শুরু করেছে বার্সেলোনা। সেই তালিকায় রদ্রির নামও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
