খাবার ডেলিভারি দেওয়া রাইডারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর

ফুডপান্ডার এক ডেলিভারি রাইডারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।

শনিবার রাতে রাজধানীর বাড্ডা থানায় জিডি করেন তিনি। 

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. নাসিরুল আমিন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

ওই শিক্ষার্থী ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গত ৩ আগস্ট রাত ১০টার দিকে ফুডপান্ডায় খাবারের অর্ডার করি। ওই রাতেই অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে আমাকে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর বার্তা পাঠানো হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমি ওই ব্যক্তিকে চিনতে পারিনি। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, তিনিই আমার খাবার পৌঁছে দেওয়া রাইডার।’

তার ভাষ্য, অভিযুক্তের নাম কাওসার হোসেন, বয়স ২৪ বছর।

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করি। এ কারণে বাড্ডা থানায় জিডি করেছি।’

জিডিতে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি পরিচয় না দিয়ে বারবার ফোন করেন ও হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর বার্তা পাঠান। শিক্ষার্থী ওই নম্বরে কল করে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি কল না ধরে কেটে দিতেন।

পরে ৫ আগস্ট ওই শিক্ষার্থী ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা জানান। সেখানে তিনি বলেন, ‘ওই রাইডার জানতেন, আমি বাসায় একা ছিলাম।’ অন্য নারীদের সতর্ক করতে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো আপত্তিকর বার্তার স্ক্রিনশটও পোস্ট করেন।

পরদিন ৬ আগস্ট  আরেকটি ফেসবুক পোস্টে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার পর তিনি কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ধর্ষণের হুমকি পেতে শুরু করেন।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থী বলেন, ‘গত ৬ আগস্ট ফুডপান্ডার এক কর্মকর্তা আমাকে জানান, অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর প্রতিষ্ঠানটি ওই রাইডারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

তার অভিযোগ, ঘটনাটি জনসমক্ষে আসার পর তিনি নতুন করে অনলাইন হয়রানির শিকার হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুডপান্ডা এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যালোচনা করার পর ওই রাইডারকে ফুডপান্ডা প্ল্যাটফর্ম থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রাইডারের অগ্রহণযোগ্য আচরণের কারণে গ্রাহক যে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন, তার জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। এ বিষয়ে পুলিশের যেকোনো তদন্তে ফুডপান্ডা সহযোগিতা করবে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, গ্রাহকের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সব রাইডারকে কাজে যোগদানের সময় আমাদের পেশাগত মানদণ্ড ও হয়রানি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর জিরো-টলারেন্স নীতি সম্পর্কে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

 

Related Articles

Latest Posts