রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বিরুদ্ধে একটি হল সংসদ আয়োজিত রম্য বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু থেকে ‘বিচারহীনতা ও মব জাস্টিস’ বাদ দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদ আজ সোমবার এ বিতর্কের আয়োজন করে।
হল সংসদের বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক সহকারী সম্পাদক বাঁধন বিশ্বাস দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর তাকে ফোনে বলেছেন যে বিতর্কের বিষয়ে ‘মবের’ প্রসঙ্গ থাকলে রাকসু আর্থিক অনুদান দেবে না।
বাঁধন বলেন, ‘আমি তাকে জানিয়ে দিয়েছি যে আমি বিষয় পরিবর্তন করব না।’
বিতর্কের মূলমন্ত্র হলো: সমস্যার দুনিয়ায় আমিই সেরা, তাই দেশের স্বার্থে আমাকে বিদায় দেওয়া চলবে না।
রম্য হিসেবে আয়োজিত এই বিতর্কের আটটি বিষয় হলো: বেকারত্ব ও ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি, জ্বালানি সংকট-লোডশেডিং ও যানজট, খাদ্য ভেজাল ও জনস্বাস্থ্য সংকট, গুজব, সাইবার বুলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, বিচারহীনতা ও মব জাস্টিস, অন্ধ রাজনীতি ও পপুলিস্ট সিদ্ধান্ত এবং মাদক ও চাঁদাবাজি।
বাঁধন বিশ্বাস বলেন, ‘বিচারহীনতা ও মব জাস্টিস বিষয়টি বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। রম্য বিতর্কের মূল উদ্দেশ্য হলো হাস্যরস ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে সমসাময়িক সমস্যাগুলো তুলে ধরা এবং ওই ধরনের মানসিকতা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে মানুষকে ভাবানো।’
‘আমাদের কাছে বিতর্কের স্বাধীনতা কোনো আপসের বিষয় নয়,’ যোগ করেন বাঁধন।
তিনি জানান, রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য বিভাগ থেকে প্রথমে এই আয়োজনের জন্য আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিতর্কের বিষয় পর্যালোচনার পর তারা ‘বিচারহীনতা ও মব জাস্টিস’ বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেয়।
‘আমি বিষয় পরিবর্তন করব না। এটাই চূড়ান্ত। রাকসু আর্থিক সহায়তা না দিলেও হল সংসদের নিজস্ব ফান্ডে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে,’ বলেন তিনি।
তবে বিষয় বাদ দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর।
তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাকসুর সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও নীতিমালা রয়েছে। আমরা যেসব ক্লাব ও হল সংসদকে ইতোমধ্যে সহায়তা দিয়েছি, তাদের অনুরোধ করেছি যেন তারা এমন কোনো বিষয়ে বিতর্কের আয়োজন না করে যা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।’
‘অন্যান্য ক্লাব ও হল সংসদগুলো তাদের বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সংসদের নিয়ম ও নীতিমালা মেনেই কাজ করেছে,’ বলেন ইমরান।
তার দাবি, জিয়াউর রহমান হল সংসদ রাকসুর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা না করেই বিতর্কের ব্যানার ও পোস্টার তৈরি করে ফেলেছে।
ইমরান বলেন, ‘রাকসুর পক্ষ থেকে হল সংসদকে অনুষ্ঠানসূচিতে কিছু পরিবর্তন আনার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত কিছু বিষয় যুক্ত করার অনুরোধ করা হয়েছিল।’
‘এটি আমাদের নীতি ও সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদ তা গ্রহণ করেনি,’ তিনি বলেন।
তিনি আরও জানান, হল সংসদ রাকসুর নিয়ম ও নীতি মানতে অস্বীকৃতি জানানোয়, বিতর্ক ও সাহিত্য বিভাগ পরবর্তীতে বিতর্কের ব্যানারে রাকসুর নাম ব্যবহার না করার অনুরোধ করেছে।
