পুরোনো জৌলুস ফিরিয়ে মোহামেডানের তারকাবহুল দল

একসময় ফুটবলের দলবদল মানেই ছিল উৎসব। খেলোয়াড়দের বরণ করে নিতে ক্লাব প্রাঙ্গণে থাকত সমর্থকদের ভিড়, বাদ্যযন্ত্রের তালে জমে উঠত পরিবেশ। সেই পুরোনো দিনের আবহই যেন ফিরিয়ে আনল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। বৃহস্পতিবার তারকায় ঠাসা নতুন দল নিয়ে বর্ণিল সাইন-অন ডের আয়োজন করেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।

ঐতিহ্যবাহী সাদা-কালো ক্লাব প্রাঙ্গণ এদিন পরিণত হয় উৎসবের মঞ্চে। ঢোলের তালে তালে বাজছিল ট্রাম্পেট, চারপাশে সমর্থকদের কণ্ঠে উঠছিল ‘মোহামেডান! মোহামেডান!’ স্লোগান। ঘোড়ার গাড়িতে করে নতুন খেলোয়াড়দের ক্লাবে আনা হয়, যা পুরো আয়োজনকে ফিরিয়ে দেয় ফুটবলের সেই সোনালি সময়ের স্মৃতি।

সাবেক ও বর্তমান ফুটবলারদের পাশাপাশি ক্লাবের কর্মকর্তারাও যোগ দেন এই আয়োজনে। পরে ফুল দিয়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বাফুফে ভবনে। সেখানে ৩৩ খেলোয়াড়ের নিবন্ধনের কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়। যদিও ক্লাবটি এরই মধ্যে অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল।

এবারের দলবদলে শুরু থেকেই শক্তিশালী দল গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল মোহামেডানের নতুন পরিচালনা পর্ষদ। বিশেষ করে বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী ফিফার নিষেধাজ্ঞায় দল গঠনে সমস্যায় পড়ায় মোহামেডানের সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিংস থেকেই একসঙ্গে আটজন খেলোয়াড়কে দলে টেনেছে তারা।

২০০৯-১০ মৌসুমের পর এবারই প্রথম জাতীয় দলের এত বেশি খেলোয়াড় নিয়ে দল সাজিয়েছে মোহামেডান। এমনকি ২০২৪-২৫ মৌসুমে লিগ শিরোপা জেতা দলেও এত সংখ্যক জাতীয় দলের খেলোয়াড় ছিলেন না।

বর্তমান দলে রয়েছেন জাতীয় দলের দুই গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো ও সুজন হোসেন। তাদের সঙ্গে আছেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, সোহেল রানা জুনিয়র, সাদ উদ্দিন, শাহরিয়ার ইমন, রহমত মিয়া, শাকিল আহাদ তপু, জাহিদ হাসান শান্ত, মজিবুর রহমান জনি ও রিমন হোসেন। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন দলের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কেও ধরে রেখেছে ক্লাবটি।

সবশেষে মোহামেডানে যোগ দিয়েছেন জিকো। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে প্রথমবারের মতো সাদা-কালো শিবিরে নাম লেখান জাতীয় দলের এই গোলরক্ষক। নতুন ক্লাবে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বসিত জিকো বলেন, ‘অনেক আগেই আমার মোহামেডানে খেলার কথা ছিল, কিন্তু সেটি হয়নি। এখন মোহামেডানের হয়ে খেলতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা নতুন ও পুরোনো খেলোয়াড়রা যদি মাঠে একসঙ্গে ভালো খেলতে পারি এবং সমর্থকদের সমর্থন পাই, তাহলে মোহামেডানের জন্য সব ট্রফি জিততে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

দলের শক্তিমত্তা বাড়লেও শিরোপা জিততে শৃঙ্খলা ও কঠোর অনুশীলনের বিকল্প দেখছেন না সোহেল রানা জুনিয়র, ‘বসুন্ধরা কিংসের আটজন খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া এবং আগের বিদেশি খেলোয়াড়দের ধরে রাখায় মোহামেডান শক্তিশালী দল হয়েছে, যারা চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য লড়বে। আমরা একে অপরকে খুব ভালোভাবে চিনি। তবে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে শৃঙ্খলা ও সঠিক অনুশীলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

ফয়সাল আহমেদ ফাহিমও শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। লিগ ও ফেডারেশন কাপ জয়ের অভিজ্ঞতা তাদের এবারও শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে রাখবে বলে মনে করেন এই উইঙ্গার। তবে দলের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে কোচের কৌশল ও মাঠে তার বাস্তবায়নের ওপর।

দলকে আরও শক্তিশালী করতে বিদেশি কোচ নিয়োগেরও পরিকল্পনা রয়েছে মোহামেডানের। ক্লাবটির পরিচালক ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, উজবেকিস্তান অথবা ডেনমার্ক থেকে একজন বিদেশি কোচ আনার চেষ্টা চলছে।
 

Related Articles

Latest Posts