‘চাপে আছে অস্ট্রেলিয়া, নার্ভাস হয়ে পড়বে তারা’, বললেন পন্টিং

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের দাপট যত বাড়ছে, ততই অস্বস্তি বাড়ছে অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে। টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ১৫৩ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ যখন চালকের আসনে, তখন স্বাগতিকদের ব্যাটিং নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং। তার মতে, তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নামার আগে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের মধ্যে নার্ভাসনেস কাজ করবে।

প্রথম দিন হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেটের পর দ্বিতীয় দিন তানজিদ হাসানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে বাংলাদেশ। দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে। উইকেটও ধীরে ধীরে ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়ে উঠছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে কথা বলেছেন পন্টিং। চ্যানেল সেভেনে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তারা পুরোপুরি চাপে আছে। আগামী কয়েক দিন তাদের কয়েকজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে যাচ্ছে। তারা নার্ভাস থাকবে এবং সেই নার্ভাসনেস ধীরে ধীরে তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে।’

বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা কীভাবে চাপ সামলান, সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করেন সাবেক এই অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘তারা টেস্টে অনেক পিছিয়ে আছে। আগামীকাল সকালেই আমরা অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটিং অর্ডারের মানসিকতা, মান এবং দক্ষতা সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়ে যাব।’

প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। হাসান মাহমুদ একাই নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। দ্বিতীয় দিনও অস্ট্রেলিয়ার জন্য স্বস্তির কিছু ছিল না। এবার ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তানজিদ হাসান।

নিজের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির আগ্রাসী ব্যাটিং থেকে বেরিয়ে এসে ধৈর্যের অনন্য উদাহরণ দেখান এই ওপেনার। পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ক্রিজে থেকে ১৯৭ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। মারেন আটটি চার ও একটি ছক্কা। মিচেল স্টার্কের বলে ক্যাচ দিয়ে থামার আগে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।

তবে বাংলাদেশের এই বড় লিড শুধু তানজিদের ব্যাটেই আসেনি। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হকের সঙ্গে ১০২ রানের জুটি গড়েন তিনি। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন আরও ৯৩ রান। শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ৬৬ রানের জুটিও দলকে এগিয়ে নেয়।

দ্বিতীয় নতুন বলে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৪.৫ ওভারের মধ্যে বাংলাদেশের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন স্বাগতিকদের তিন পেসার। তিনটি ক্যাচই দ্বিতীয় স্লিপে নেন স্টিভ স্মিথ। এর মাধ্যমে টেস্টে উইকেটকিপার নন এমন ফিল্ডার হিসেবে সর্বোচ্চ ক্যাচের তালিকায় জো রুটকে ছুঁয়ে ফেলেন তিনি।

কিন্তু তাতেও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামেনি। মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ ২৪.৩ ওভার একসঙ্গে ব্যাট করে অবিচ্ছিন্ন ৪৩ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন। মিরাজ ৩২ এবং হাসান ১৩ রানে অপরাজিত আছেন।

ফলে ১৫৩ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিনে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেটও এখন তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে শুধু রান তাড়া বা লিড কমানোর চ্যালেঞ্জ নয়, নিজেদের মানসিক শক্তি প্রমাণের পরীক্ষাও অপেক্ষা করছে।

পন্টিংয়ের ভাষায়, ‘এখন আমরা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারের চরিত্র ও মানের একটি সত্যিকারের পরীক্ষা দেখতে যাচ্ছি।’
 

Related Articles

Latest Posts