চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে কাজ করার সময় অসুস্থ এক শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
মৃত মো. আলাউদ্দিন (৫১) বারাকা শিপব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ফিটারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আজ রোববার ভোরে নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) পরিদর্শক সোহেল পারভেজ দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বারাকা শিপব্রেকিংয়ের মালিক মো. শামসুল আলমও তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১৬ আগস্ট আলাউদ্দিনকে ইয়ার্ডের জাহাজ থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর আগে, গত ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস শিপব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ১০ শ্রমিক মারা যান। ওই ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায়ই আরেক ইয়ার্ডে শ্রমিকের মৃত্যুর খবর সামনে এলো।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, ইয়ার্ডে কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে আলাউদ্দিনের মেরুদণ্ডে চোট লাগে। সেই আঘাতজনিত কারণেই তিনি মারা গেছেন।
জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের সদস্য ও শ্রমিক নেতা ফজলুল কবির মিন্টু ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা জেনেছি যে ইয়ার্ডে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় আলাউদ্দিন মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছিলেন। কিন্তু ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে আমরা প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
ইয়ার্ডের মালিক শামসুল আলমের দাবি, আলাউদ্দিন হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। রোববার ভোরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ায় তার মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন।’
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগের বিষয়ে শামসুল আরও বলেন, ‘স্বার্থ হাসিলের জন্য কিছু শ্রমিক নেতা আলাউদ্দিনের মৃত্যুকে ঘিরে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন। পুলিশ ও প্রশাসন তার শারীরিক অবস্থা ও মৃত্যুর বিষয়ে জানে। প্রয়োজন মনে করলে সরকার বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পারে।’
ডিআইএফই পরিদর্শক সোহেল পারভেজ বলেন, ‘তার মৃত্যুর সঠিক কারণ উল্লেখসহ মৃত্যু সনদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চেয়েছি। কাগজপত্র পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
