শ্রীলঙ্কার আচরণকে ‘অপেশাদার’ বললেন মাঞ্জরেকার

কলম্বোয় ভারতের সঙ্গে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের একদম শেষ মুহূর্তে শ্রীলঙ্কা দলের আচরণ দেখে অবাক সাবেক ভারতীয় ব্যাটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। আলো কমে আসা সত্ত্বেও খেলা চালিয়ে যাওয়ায় মাঠের আম্পায়ারদের প্রতি অসন্তোষ দেখান প্রভাত জয়াসুরিয়া ও কামিল মিশারা। এর পরেই মানব সুথারের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন জয়াসুরিয়া।

ড্রেসিংরুমে ফিরে মেজাজ হারিয়ে গ্লাভস ছুড়ে ফেলেন জয়াসুরিয়া। দ্বিতীয় দিন শেষে স্বাগতিকদের রান ছিল ২ উইকেটে ৮, আর তারা তখনো ৪৯৫ রানে পিছিয়ে। ক্যামেরায় পুরো শ্রীলঙ্কান শিবিরকে ক্ষুব্ধ দেখা গেলেও মাঞ্জরেকার পরিষ্কার জানান, মূল খেলায় মনোযোগ না হারিয়ে আবেগে ভেসে যাওয়া ছিল স্বাগতিকদের চরম ভুল।

তবে একই সঙ্গে সঞ্জয় মাঞ্জরেকার ভারতীয় তরুণ মানব সুথারের দারুণ বোলিংয়ের প্রশংসাও করেন, যিনি দিনশেষে জয়াসুরিয়াকে ফেরাতে চমৎকার ডেলিভারি করেছিলেন।

ঘটনার পেছনে আসল কারণ কী?

সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কে কথা বলার সময় মাঞ্জরেকার বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার এমন আচরণ আমার কাছে মোটেও পেশাদার মনে হয়নি। আলো কমে আসছে বোঝাতে আপনি আম্পায়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই পারেন, কিন্তু তাই বলে বলের ওপর থেকে চোখ সরিয়ে ফেলা যায় না। আলো এতটাও খারাপ ছিল না যে বল দেখা যাচ্ছিল না। কিন্তু আম্পায়ারদের প্রতি ক্ষোভ দেখাতে গিয়ে তারা মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিল। আলোর একটা নির্দিষ্ট মাত্রা থাকে যা ব্যাটিংয়ের জন্য অনুপযোগী মনে করা হয় এবং সিদ্ধান্ত ব্যাটারদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘হয়তো আলোর ব্যাপারে শ্রীলঙ্কার অভিযোগ একেবারে ভুল ছিল না, কিন্তু তাই বলে ক্রিজে অমন ভুল করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। অবশ্য একজন নাইটওয়াচম্যান হিসেবে আউট হওয়ার জন্য জয়াসুরিয়াকে একতরফা দোষ দেওয়া যায় না। সুথারের ডেলিভারিটা সত্যিই অসাধারণ ছিল—বৈচিত্র্য ও কৌশল দুই দিক থেকেই একদম নিখুঁত।’

দিনের শেষ সেশনে বৃষ্টি এসে বাঁধ সাধলে আম্পায়াররা খেলা থামানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং মাঠে কাভার আনা হয়। কিন্তু ভারতীয় দল মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে আম্পায়ারদের ওপর একপ্রকার মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে।

কিছুক্ষণ পরেই বৃষ্টি থেমে যায় এবং খেলা আবার শুরু হয়। ভারত তাদের প্রথম ইনিংস ৯ উইকেটে ৫০৩ রানে ডিক্লেয়ার করার পর প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ও মানব সুথার মিলে শ্রীলঙ্কার দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।

মাঞ্জরেকার মনে করেন, ভারতীয় দল পরিস্থিতি পুরোপুরি নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসে। ‘ভারত মাঠ না ছেড়ে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থেকে আম্পায়ারদের ইঙ্গিত দেয় যে খেলার মতো পরিবেশ এখনো আছে। বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত এখন অন্যতম পরাশক্তি। তারা যখন এভাবে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন আম্পায়ারদের ওপর স্বভাবতই একটা আলাদা চাপ তৈরি হয়।’

এর আগে দেবদূত পাড়িক্কাল ও ধ্রুব জুরেলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ভারত স্কোরবোর্ডে ৫০০-র বেশি রান তোলে। শ্রীলঙ্কার হয়ে চারটি উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন অসিথা ফার্নান্দো।

 

Related Articles

Latest Posts