বর্তমান সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের পক্ষে না বলে নবনিযুক্ত তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
গণমাধ্যমের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র বিশ্বাস করা আসলে মানসিকতার ব্যাপার। এটা কোনো সিস্টেমের ব্যাপার না। আমরা ১৭ বছর যেটা দেখেছি, সেই মানসিকতাটা ছিল না। সমালোচনা শোনার মানসিকতা ছিল না এবং সেই কারণেই হয়তো মনে করিয়ে দেওয়া হতো যে, টিভি চ্যানেল আমরা দিয়েছি, আমাদের পক্ষেই কথা বলতে হবে। গত ছয় মাসে আমাদের তরফ থেকে এবং প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এই ধরনের কোনো নির্দেশনা বা মানসিকতার কোনো বহিপ্রকাশ আমি নিশ্চিত আপনারা দেখতে পাননি।’
‘দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিনও বলেছি, আমরা কাউকে নিয়ন্ত্রণ করব না। আমরা কারও মুখ বন্ধ করে দেবো না। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা গণতন্ত্রের আরেকটা স্তম্ভ, আপনারা আছেন তাই আমরা এখানে আছি। আমরা আছি, তাই আপনারা আছেন। আমরা সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমাদের ওই মানসিকতা নেই কাউকে বন্ধ করার, কাউকে থামিয়ে রাখার,’ বলেন মন্ত্রী।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি এখন ভারতে আছেন। আমার জানা মতে, তারা আদালতের মাধ্যমে নাকি (প্রত্যর্পণ) করবেন। আমার কাছে অনেকখানি মনে হয় যে, তিনি গিয়েছিলেন একভাবে। কিন্তু সরকার হয়তো এখন ওই রাজনৈতিক দায়-ভার নিতে চাচ্ছে না বলে এটা জুডিশিয়ারির ওপর দিয়ে দিচ্ছে। আমার মনে হয় যে, তার জন্য এই সংবাদটা খুব একটা সুখকর হবে না। আমাদের দাবি একই, প্রত্যেককেই আমরা ফেরত চাই, যাদের নামে মামলা আছে।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন যেন আমরা ভালো করে কাজ করতে পারি। দেশে সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন আছে, কোথাও না কোথাও কোনো না কোনো পেটি ক্রাইম হচ্ছে। আপনি যদি সব পত্রিকার পাতায় নিয়ে আসেন, তাহলে মানুষ মনে করবে দেশে কোনো মানুষ বাস করতে পারছে না। অবশ্যই আপনারা সমালোচনা করবেন, কিন্তু বস্তুনিষ্ঠভাবে। এটা মাথায় রাখবেন যে, কোনো স্বাভাবিক সময়ে আমরা সরকারের দায়িত্বে আসিনি।’
বিটিভির সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রথম অনুরোধ ছিল, আমার আর প্রতিমন্ত্রীর ছবি কীভাবে কম দেখানো যায়। দুদিন ধরে চেষ্টা করেও এটা আমাদের জন্য ডিফিকাল্ট হয়ে যাচ্ছে।’
সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়ি ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তৌহিদী জনতার বাধা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই দেখে আসছি, আজ থেকে না, ৪০-৫০ বছর ধরে দেখে আসছি যে, কালচারাল বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটা গোষ্ঠী সবসময় এরকম করে। এটা বাংলাদেশে অনেক সময় হয়ে আসছে। মানুষ জানে মানুষের পাশে কীভাবে থাকতে হয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং বিষয়টি দেখবে।’
কনসার্ট বন্ধের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘কনসার্ট বাতিল হওয়া মানেই যে সরকার সহযোগিতা করে না, এমন নয়। হয়তো সেখানে নিরাপত্তার সমস্যা ছিল, বা অন্য কিছু ছিল, যেটা আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারব। মাঝে মাঝে কনসার্ট অন্যান্য ভিন্ন কারণেও বাতিল করা হয়। জরুরি না যে কারও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাতিল করা হয়েছে।’
‘এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে যদি আমরা দেখি যে, যেখানে এই ধরনের কোনো (নিরাপত্তা ঝুঁকি) কিছু হতে পারে, সিকিউরিটির আরও বেশি ক্রাইসিস হতে পারে…বাংলাদেশে কিন্তু অনেক কনসার্টই হচ্ছে এবং অনেক বড় বড় কনসার্ট হচ্ছে। আমাদের সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের কোনো মানসিকতা নেই যে, কালচারাল কোনো ব্যাপারে কোনো বাধা বা বিঘ্ন করা,’ বলেন তিনি।
