মার্কিন চুক্তি বাতিলসহ ৪ দাবিতে ‘ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলসহ ৪ দাবিতে ‘ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থান দিবসের’ প্রতি সংহতি ও একাত্মতা জানিয়ে 
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ৩ দিনব্যাপী প্রচারযাত্রা দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে শেষ হয়েছে।

একইসঙ্গে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ বুধবার ফুলবাড়ীতে দিবসটি পালন করেছে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন।

কর্মসূচিতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পক্ষে সম্প্রতি দেওয়া অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

দিবসটি উপলক্ষে ফুলবাড়ীর নিমতলার মোড়ে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ফুলবাড়ী অভ্যুত্থান আন্দোলন ছিল সারা পৃথিবীর জন্যই একটি দৃষ্টান্ত। যে এশিয়া এনার্জি কোম্পানি জনপ্রতিরোধের সামনে টিকতে পারেনি, আজকের দিনেও তারা শেয়ারবাজারে ফুলবাড়ীকে দেখিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৬ সালের পর থেকে প্রতিটি সরকারই এই মুনাফা গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে এসেছে, ফুলবাড়ীর চুক্তি বাস্তবায়ন করেনি। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই এলাকা পুলিশ দিয়ে দখল করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তখনো মানুষ প্রতিরোধ করেছিল। এখন বিএনপি সরকার ৬ মাস যেতে না যেতেই তাদের মন্ত্রী উন্মুক্ত কয়লা খননের কথা বলছেন।’

উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলনের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

অন্যদিকে, কমিটি প্রস্তাবিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের অন্যতম সদস্য এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মাহবুব সুমন বিরামপুর ও দিনাজপুর সমাবেশে বিএনপি সরকারের উন্মুক্ত কয়লা তোলার প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, ‘দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে মাটির প্রায় ২৪০ মিটার বা প্রায় ৭৯০ ফুট নিচে কয়লার স্তর আছে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করতে হলে ৭৯০-৮০০ ফুট গভীর কাটার পর কয়লা উত্তোলন শুরু হবে। এরপর কয়লার জন্য আরও ১৫০ ফুট গভীর হবে। যে পরিমাণ বর্জ্য হবে তা রাখার জন্য পুরো দিনাজপুর শহরের সমান জায়গা লাগবে।’

তিনি বলেন, শুধু ২০০ জনের কর্মসংস্থান দেখিয়ে এখানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনন স্থানীয় জনগণের জন্য প্রকৃতপক্ষে ভালো কিছু নিয়ে আসবে না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা নিত্রা, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী প্রমুখ।

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আয়োজনে ২৪ আগস্ট থেকে গণতান্ত্রিক কমিটির উদ্যোগে মার্কিন চুক্তি বাতিল, ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জনবান্ধব সমাধান এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে বেসরকারিকরণ বন্ধ করার ৪ দাবিতে ৩ দিনব্যাপী ‘প্রচারযাত্রা’ ঢাকা থেকে শুরু হয় ।

কর্মসূচিতে একযোগে গাজীপুর, টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানীর মাজার, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গোবিন্দগঞ্জ, বিরামপুর ও দিনাজপুরে সমাবেশ, পথসভা ও মার্কিন চুক্তির ক্ষতিকর দিক উল্লেখ করে প্রচারপত্র বিলি হয়।  

আজ সমাবেশের শুরুতেই গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষ থেকে ফুলবাড়ীতে শহীদ বেদীতে পুস্পস্তবক দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানােনো হয়।

এরপর নিমতলার মোড়ে মার্কিন চুক্তির ভয়াবহতা দিক নিয়ে ‘বিপদের প্রদর্শনী’ আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীতে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি কীভাবে বাংলাদেশের পোল্ট্রি, কৃষি, ওষুধ, গ্যাস শিল্পকে ধ্বংস করে তুলবে তা তুলে ধরে আয়োজকরা।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ‘উন্মুক্ত না, রপ্তানি না, বিদেশি না’ স্লোগানে খনিজ সম্পদ রক্ষায় জাতীয় কমিটির নেতৃত্বে এশিয়া এনার্জির কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন প্রায় এক লাখ মানুষ। তখন কোম্পানিটিকে ফুলবাড়ীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এক দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশের শেষদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায়। এতে নিহত হন আমিন, তরিকুল ও সালেকিন, যারা সবাই ছিলেন কিশোর ও তরুণ।

Related Articles

Latest Posts