রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে এক শিক্ষার্থীর বিছানা থেকে একটি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে হলের তৃতীয় ব্লকের ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে সাপটিকে উদ্ধার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী রাব্বি রেজা ওই কক্ষে থাকেন। এ ঘটনায় ওই হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে রাব্বি রেজা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো রাত ১২টার দিকে মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে যাই। রাত আনুমানিক ২টার দিকে হাঁটুতে কোনো কিছুর স্পর্শ পেয়ে ঘুম ভাঙে। চোখ খুলে দেখি মশারির ওপর একটি সাপ পেঁচিয়ে আছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড ন্যাচার (সোয়ান) সদস্যদের খবর দিই। তারা এসে সাপটি উদ্ধার করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা কক্ষ পরিদর্শন করেন এবং হলের পেছনের আগাছা পরিষ্কার ও কক্ষের জানালায় নেট লাগানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেন।’
সোয়ানের রেস্কিউয়ার ফাহিম মুনতাসীর রাফিন বলেন, ‘আমাদের দলের এক সদস্য নিরাপদে সাপটি উদ্ধার করেন। এটি মারাত্মক বিষধর কালাচ সাপ। বর্তমানে এটি সোয়ানের হেফাজতে রয়েছে। বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত স্থানে সাপটি অবমুক্ত করা হবে।’
এ ঘটনায় সাপের বিষ নিয়ে গবেষণারত বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু রেজা বলেন, ‘সাধারণত কালাচ লোকালয়ে আসে না। আমার জানা মতে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো পাওয়া গেল। তবে শিক্ষার্থীর মশারির ওপর এ ধরনের বিষধর সাপ পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কালাচ নিশাচর সরীসৃপ, তাই প্রশাসনের উচিত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নয়, বরং বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে পদ্মার চরের মতো উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে সাপটি অবমুক্ত করা হলে তা বেশি নিরাপদ হবে।’
