নেপালে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যার ১০ দিন পর এক নারী ও এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ শনিবার নুয়াকোট জেলার একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি থেকে ওই নারীকে এবং ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, নুয়াকোটের বেত্রাবতী এলাকায় ধ্বসে পড়া চারতলা বাড়ির ওপরের তলা থেকে ৬৪ বছর বয়সী ওই নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উদ্ধার চন্ডিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা তখন অচেতন অবস্থায় ছিলেন। দেশটির সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদুর পৌর এলাকার আনন্দ শ্রেষ্ঠার বাড়িতে থাকতেন ওই নারী।
ইনস্পেক্টর সুমন কুমার বিকের নেতৃত্বে পুলিশের নয় সদস্যের একটি দল তাকে উদ্ধারে অভিযান চালায়।
উদ্ধারের পরপরই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য শ্রেষ্ঠাকে হেলিকপ্টারে ত্রিশূলীতে নেপালি সেনাবাহিনীর মৈথিলী ব্যারাকে নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নেওয়া হবে।
এদিকে, আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের প্রায় ২২৫ মিটার ভেতর থেকে এক চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপালের সেনাবাহিনী জানায়, চীনা নাগরিক লুহাইতাওকে সুড়ঙ্গের ভেতরে খুঁজে পান নেপালি ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারীরা।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেত জানান, যৌথ উদ্ধার অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনী ও বিদেশি উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ২২৫ মিটার দূরে তাকে খুঁজে পান এবং জীবিত অবস্থা বের করে আনেন।
উদ্ধারের পর লুহাইতাওয়ের শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা চলছে।
টানা ১০০ ঘণ্টা ধরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অভিযান চলছে। গতকাল দুজনকে উদ্ধার করা হয় সুড়ঙ্গ থেকে।
সুড়ঙ্গের প্রায় ৪০ মিটার ভেতর থেকে সঞ্জয় শাহ ও কবির মহাজনকে গতকাল জীবিত উদ্ধারের পর আজ আবার একজনকে উদ্ধার করা হলো। এতে প্রকল্পের ভেতরে আটকে পড়া আরও অনেকে জীবিত থাকতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
