‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমা দিয়ে জুটি বাঁধেন সালমান শাহ ও মৌসুমী। অভিষেক এই সিনেমা দিয়ে করেন বাজিমাত। কোটি দর্শকের হৃদয় জয় ও ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিটি।
এরপর দুজনে জুটি হয়ে অভিনয় করেন ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’ ও ‘স্নেহ’ সিনেমায়।
আজ সালমান শাহর প্রয়াণ দিবস। দর্শকনন্দিত নায়িকা মৌসুমী বর্তমানে আছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখান থেকে সালমান শাহকে নিয়ে তিনি কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।
মৌসুমী বলেন, ‘সালমান শাহকে প্রতিদিন মিস করি। সবসময় মনে পড়ে। কত স্মৃতি আমাদের। স্মৃতিগুলো মনে পড়ে। দেখতে দেখতে বহু বছর হয়ে গেল সালমান নেই। তার জন্য দোয়া করি। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন।’
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় দুজনের প্রথম জুটি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম সিনেমার নায়ক সালমান। কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তির পর রেকর্ড সৃষ্টি করে। দর্শকরা পছন্দ করেন সিনেমাটি এবং জুটি হিসেবেও আমাদের দারুণভাবে গ্রহণ করেন। মুক্তির এতবছর পরও কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমা নিয়ে আলোচনা হয়, প্রশংসা করা হয়।’
৩০ বছর হলো সালমান শাহ নেই। মৌসুমী বলেন, ‘দেখতে দেখতে অনেক বছর হয়ে গেল। মাঝে মাঝে ভাবি—সালমান যদি ফিরে এসে চমকে দিতেন। কিন্ত, তা তো সম্ভব না। তারপরও ভাবি। তারপরও ভাবনাগুলো কাজ করে যদি ফিরে আসতেন!’
মৌসুমী বলেন, ‘সালমান বিশাল শ্রেণীর ভক্ত তৈরি করেছিল। আলাদা একটা ক্রেজ তৈরি করেছিল। অল্প দিনে বিশাল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। আজও তার ভক্তের শেষ নেই। এখানেই তার সাফল্য। এখানেই তার নায়ক হিসেবে অর্জন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সালমানের মায়ের কষ্ট আমি বুঝি। মা তো মা। মায়ের মতো করে কেউ কষ্ট অনুভব করতে পারবে না। মা হিসেবে তিনি যেন ন্যায়বিচার পান। ভক্তরাও যেন ন্যায়বিচার পান। আমরা সবাই তা আশা করি।’
মৌসুমী বলেন, ‘সালমান কাজ ভালোবাসতেন। অভিনয় ভালোবাসতেন। খুব স্মার্ট ছিলেন। সিনেমার প্রতি তার প্রবল ভালোবাসা ছিল। সহশিল্পী বলি বা প্রথম সিনেমার নায়িকা হিসেবে বলি, তার আত্মা শান্তিতে থাকুক। তার জন্য সবসময় প্রার্থনা করি।’
মৌসুমী আরও বলেন, ‘অল্প কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে সালমান বেশ কিছু সিনেমা করেছেন এবং ঢাকাই সিনেমায় ভালো অবদান রেখে গেছেন। তার অবর্তমানেও সিনেমার আবেদন রয়ে গেছে। নতুন প্রজন্মের দর্শকরাও তার সিনেমা দেখেন। এই কৃতিত্ব সালমানের।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘সালমান যেখানে আছেন ভালো থাকুন।’
