রিয়াল মাদ্রিদকে টপকে লিগের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল বার্সেলোনা। ভ্যালেন্সিয়ার উড়িয়ে টানা চতুর্থ ম্যাচেও জয় পেল হান্সি ফ্লিকের দল। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবলে স্বাগতিকদের কোণঠাসা করে রাখে বার্সা, আর জোড়া গোল করে জয়ের রাতে নিজের নামটাও আলাদা করে লিখে রাখেন লামিন ইয়ামাল।
রোববার মেস্তায়ায় লালিগার ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানের বড় জয় পেয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। ইয়ামালের জোড়া গোলের সঙ্গে গোল পেয়েছেন ফারমিন লোপেজ, রাফিনিয়া ও পেদ্রি।
এই জয়ে চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে বার্সা এখন দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে। অন্যদিকে শুক্রবার রিয়াল বেতিসের কাছে রিয়াল মাদ্রিদ ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় বার্সার জন্য ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোলের খাতা খোলেন ইয়ামাল। ফারমিন লোপেজের অসাধারণ লব পাস পেয়ে ভ্যালেন্সিয়ার রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে দারুণ এক চিপে বল জালে পাঠান ১৯ বছর বয়সী এই তারকা।
এরপর আরও একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন ইয়ামাল। তবে অফসাইডের কারণে ভিএআরের পর সেটি বাতিল হয়। তাতে অবশ্য বার্সার আক্রমণের ধার কমেনি।
২২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফারমিন। সাবেক নিউক্যাসল উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনের পাস থেকে পাওয়া সুযোগ ঠান্ডা মাথায় কাজে লাগান তিনি।
প্রথমার্ধেই অবশ্য বার্সা হারায় এরিক গার্সিয়াকে। সতীর্থ রদ্রির কাঁধে ধাক্কা লেগে চোট পাওয়ায় মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। রদ্রিও এদিন ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বার্সায় যোগ দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে ছিলেন।
এরিক গার্সিয়ার চোটের পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছাড়েনি বার্সা। ইয়ামালের একটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আর ফারমিনের শট লাগে পোস্টে। অন্যদিকে বিরতির আগে ভ্যালেন্সিয়ার আরনা দানজুমার একটি প্রচেষ্টা দারুণভাবে ঠেকান বার্সার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে বার্সেলোনা। ৫৩ মিনিটে ফারমিনের বাড়ানো বল কাছ থেকে জালে ঠেলে নিজের ষষ্ঠ গোলটি করেন রাফিনিয়া। এরপর ৬৬ মিনিটে দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ পাসিং কম্বিনেশনের পর বার্সার চতুর্থ গোলটি করেন পেদ্রি।
শেষ দিকে বার্সার হয়ে অভিষেক হয় নতুন ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুসের। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে মাঠে নামা এই ব্রাজিলিয়ান গোলের সুযোগও তৈরি করেছিলেন, তবে তার নিচু শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৮৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ভ্যালেন্সিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন ইয়ামাল। দানি ওলমোর পাস ধরে এবার আর অফসাইডের কোনো ঝামেলা হয়নি। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ৫-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
