নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

পদ্মা নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি এবং তীব্র স্রোতের কারণে পাবনার নাজিরগঞ্জ ও রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া নৌরুটে দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ পয়েন্টে বহু পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে ছিল। আজ বুধবার সকালেও সেখানে কয়েকটি ট্রাককে অপেক্ষমাণ দেখা গেছে।

নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া নৌরুটে প্রতিদিন এ রুট দিয়ে গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি ট্রাক পারাপার হয়ে থাকে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, এই রুটে ‘ক্যামেলিয়া’ নামে একটি কে-টাইপ ফেরি চলাচল করছিল, যেটি প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি ট্রাক এবং বেশ কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপার করত।

নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএর ব্যবস্থাপক এম এন আল শিবলী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি তীব্র স্রোত দেখা যাচ্ছে। ফলে কে-টাইপ ফেরিটি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ক্যামলিয়া ফেরিটি মাত্র সাত থেকে আটটি ট্রাক বহন করতে পারে। পানির প্রবল চাপ ও তীব্র স্রোতের কারণে এটি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত সোমবার ভোরে আমরা ফেরি চলাচল স্থগিত করতে বাধ্য হই।

শিবলী আরও জানান, ফেরি পারাপার পুনরায় চালু করার জন্য একটি বড় ফেরির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি এরইমধ্যে ১৫ থেকে ১৮টি যান বহনে সক্ষম ‘কদম’ নামের একটি মাঝারি ধরনের (ইউটিলিটি) ফেরি এই রুটের জন্য বরাদ্দ করেছে।

তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রামের রৌমারীতে থাকা কদম নামের ফেরিটি বৃহস্পতিবারের মধ্যে নাজিরগঞ্জ ঘাটে পৌঁছাবে বলে আশা করছি। এরপর আগামী দুই দিনের মধ্যে এই রুটে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।’

নদীর পানি স্বাভাবিক স্তরে নেমে এলে কে-টাইপ ফেরিটি আবার চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে মঙ্গলবার পর্যন্ত নাজিরগঞ্জ ঘাটে বহু ট্রাক আটকে থাকলেও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক চালকই বিকল্প রুট ধরে চলে গেছেন। ঘাটের এক কর্মকর্তা জানান, বুধবার সকালে মাত্র দুই থেকে তিনটি ট্রাক সেখানে অপেক্ষমাণ থাকতে দেখা গেছে।

যানবাহনের চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া রুট ব্যবহারের ফলে দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি কমে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ওহাব শিকদার বলেন, ‘পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী জেলার ট্রাকচালকেরা কম দূরত্বের সুবিধার্থে এই রুট বেছে নেন। এটি ব্যবহার করলে ১০০ কিলোমিটার পথ বেঁচে যায়।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজিক্যাল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শিববার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বুধবার সকালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

তিনি জানান, গত কয়েক দিনে পদ্মার পানি দৈনিক ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার করে বাড়ছে। তবে আগামী তিন দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও আপাতত বিপদসীমা অতিক্রম করার কোনো শঙ্কা নেই।

পদ্মায় অতিরিক্ত পানির চাপের কারণ ব্যাখ্যা করে এই প্রকৌশলী বলেন, নাজিরগঞ্জ পয়েন্টের কাছে পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র (যমুনা) নদীর মিলন ঘটেছে। ফলে দুটি নদীতেই একসঙ্গে পানি বাড়ায় মিলনস্থলে তীব্র স্রোত ও পানির প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে।

Related Articles

Latest Posts