যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দুই দিনে বাতিল হয়েছে এক হাজার ৪৭৭ ফ্লাইট।
আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মঙ্গলবার এই ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর এখনো সব সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীরা।
উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষক ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, আজ বুধবার যুক্তরাজ্যজুড়ে ১৭৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার বাতিল হয় এক হাজার ৩০০ ফ্লাইট।
সব মিলিয়ে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা এক হাজার ৪৭৭।
ফ্লাইটরাডার২৪ সামাজিকমাধ্যম এক্সে লিখেছে, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের বেশিরভাগই ছিল ব্রিটেনের ব্যস্ততম বিমানবন্দর লন্ডনের হিথ্রোতে।
ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (ন্যাটস) জানিয়েছে, সিস্টেমে ‘কারিগরি ত্রুটির’ কারণে সৃষ্ট বিঘ্ন কাটিয়ে উঠতে তারা এখনো কাজ করছে।
মঙ্গলবার রাতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ন্যাটস জানায়, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াটি খুবই জটিল এবং এর ফলে পুরো উড়োজাহাজ চলাচল নেটওয়ার্কে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।’
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশটির পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার আজ বুধবার ন্যাটসের প্রধান মার্টিন রোলফের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে রোলফ বলেছেন, তিনি এই ঘটনার দায় নিচ্ছেন। তবে পদত্যাগ করবেন কি না, এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
এর আগে পরিবহনমন্ত্রী আলেকজান্ডার এক্সে বলেছিলেন, তিনি নিশ্চিত হতে চান যে এই ঘটনা থেকে সংশ্লিষ্টরা শিক্ষা নেবেন এবং উড্ডয়ন খাতের সব সহায়ক ব্যবস্থা চাহিদা অনুযায়ী, মানদণ্ড রক্ষা করে কার্যকর থাকবে।
তবে বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা রায়ানএয়ারের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা নিল মিকম্যান রোলফকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, রোলফ আবারও ‘যুক্তরাজ্যের ভ্রমণকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন।’
‘অনেক হয়েছে, এবার যুক্তরাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের সময় এসেছে। এমন কাউকে এই দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যিনি তা সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন’, যোগ করেন তিনি।
হিথ্রো মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছে, ‘কারিগরি ত্রুটির’ কারণে বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের অবতরণ বন্ধ ছিল। এখন আবারও উড্ডয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বিঘ্ন আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজ নিজ উড়োজাহাজ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, অসংখ্য ফ্লাইট বাতিলের কারণে তাদের হাজারো যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আগের ও পরের ফ্লাইট সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাটি। আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকবে বলে মত দিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে ন্যাটস জানায়, তারা সেই কারিগরি ত্রুটি ‘সমাধান করেছে’। তবে আগের অনেক ফ্লাইট বাতিলের কারণে শিডিউল বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে আরও সময় প্রয়োজন এবং তারা ফ্লাইটের জট ছাড়িয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করছে।
সংস্থাটি এক্সে লিখেছে, ‘আমরা জানি, এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। এ জন্য আমরা নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইছি।’
স্বাস্থ্যকর্মী জোসি ডনোহিউ যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে পরিস্থিতি ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। রানওয়েতে তিন ঘণ্টা আটকে থাকার পর আয়ারল্যান্ডগামী ফ্লাইটটি বাতিল হলে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে তাকেও উড়োজাহাজ থেকে নেমে আসতে হয়।
কারিগরি ত্রুটির কারণে লন্ডনের পাশাপাশি লিভারপুল, বার্মিংহাম ও এডিনবরার বিমানবন্দরও প্রভাবিত হয়েছে। এদিকে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন বিমানবন্দর জানিয়েছে, তারা কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল করেছে।
আয়ারল্যান্ডের স্বল্প খরচের উড়োজাহাজ সংস্থা রায়ানএয়ার জানিয়েছে, তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন এবং ৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
আজ বুধবার দক্ষিণ ইতালির শহর নেপলসে চ্যাম্পিয়নস লিগে নাপোলির বিপক্ষে খেলার কথা আর্সেনালের।
তবে দলের ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ায় ম্যাচের আগে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ক্লাবটি।
গত বছরের জুলাইয়েও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যুক্তরাজ্যে আসা-যাওয়া করা বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। ওই ঘটনায় উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর প্রধানরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
এর আগে ২০২৩ সালে ব্রিটেনের উড়োজাহাজ চলাচল ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছিল।
সে সময় শত শত ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হওয়ায় ৭ লাখের বেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।
