আমার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, বিএনপি সরকারের আমলে বদলি ও পদোন্নতিতে দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।

আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ বলেন, ‘এটি কোনো তদন্ত নয়; এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার একটি অপচেষ্টা।’ 

এ সময় তিনি তার বক্তব্যের সপক্ষে বিভিন্ন সরকারি আদেশ, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায় এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র উপস্থাপন করেন।

আসিফ মাহমুদ জানান, অভিযোগগুলোর একটি হলো— ২০২৬ সালের ১১ মে ১৩৫ সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া।

তার ভাষ্য, এই আদেশ যখন জারি করা হয়, তখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল এবং তিনি তার সরকারি পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম না, তখন পদোন্নতির ব্যবস্থা করে কীভাবে ২ কোটি টাকা নিতে পারি?’

আসিফ জানান, তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরদিন তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়।

তিনি দাবি করেন, পদোন্নতি নিয়ে যদি কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকে, তবে তার পরিবর্তে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত।

এই এনসিপি নেতা ৭৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে তাদের চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় বদলি করার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয়, কারণ ৩৮ জনের নয় বরং ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। তার তথ্যমতে, ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং পরে একটি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় কেবল ট্রাইব্যুনালের রায় বাস্তবায়ন করেছে। এ ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত মন্ত্রী বা উপদেষ্টা পর্যায়ে আসে না; এগুলো সচিব পর্যায়েই নিষ্পত্তি হয়।

আসিফ দুদক মুখপাত্রের আগের একটি মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে কমিশন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পেয়েছে।

তিনি বলেন, এই মন্তব্যের কারণে তার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। কারণ, দুদক সাংবাদিকদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করার আগেই এটি ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, আমি দুদক মুখপাত্রকে অনুরোধ করেছিলাম একটি স্পষ্টীকরণ দেওয়ার জন্য এবং ওই বক্তব্যের কারণে সৃষ্ট বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা কোনো সাড়া পাইনি।

আসিফ জানান, তার সুনাম ও চরিত্র হননের প্রচেষ্টার দায়ে তিনি এরইমধ্যে দুদকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

ঘটনাটিকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয় যাতে কাউকে দোষী মনে হয়।

তিনি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে তা মিডিয়ায় আসতেই পারে। তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই।

Related Articles

Latest Posts