ইংল্যান্ড সফরে ব্যর্থতার পর একের পর এক ঝামেলায় জড়াচ্ছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হক। দুই টেস্টে হারের পর ইংল্যান্ড থেকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। এবার তাদের ঘিরে তদন্ত আরও গভীর হয়েছে। পাকিস্তানের জাতীয় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি তাঁদের আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব, যোগাযোগ এবং ইংল্যান্ড সফরে ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে জিও নিউজ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাহোরে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন রিজওয়ান ও ইমাম। তাদের মুঠোফোনের ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে। একই সঙ্গে ইংল্যান্ড সিরিজের আগে ও পরে তাদের আর্থিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে দুই ক্রিকেটারের ব্যাংক হিসাব ও বিভিন্ন লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কোনো লেনদেন সন্দেহজনক মনে হলে সেটি আরও গভীরভাবে যাচাই করা হবে।
কোনো লেনদেন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সেই অর্থের উৎস কোথায়, অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং পরে কোথায় স্থানান্তর করা হয়েছে, এসব তথ্য বের করার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা। বিভিন্ন কোম্পানি, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই ক্রিকেটার কোনো অর্থ পেয়েছেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
শুধু আর্থিক লেনদেন নয়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের তথ্য বাইরে ফাঁস হওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার লাহোরের জোহর টাউনে জাতীয় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির কার্যালয়ে হাজির হন ইমাম ও রিজওয়ান।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা তাদের কাছে ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ এবং ইংল্যান্ড সফরে অনুশীলন ও ম্যাচ ঘিরে তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তবে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য আরও সময় চেয়েছেন দুই ক্রিকেটার।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রিজওয়ান বা ইমামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি জাতীয় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। কোনো ধরনের অপরাধে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণও এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
এই তদন্তের খবর সামনে আসার আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেও ইমাম ও রিজওয়ানকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ২০২৬ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নির্বাচক কমিটির এক সদস্যের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছিল পিসিবি।
এর মধ্যেই বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষার শর্ত পূরণ করতে না পারায় প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১-এ খেলতে পারবেন না ইমাম ও রিজওয়ান। রিজওয়ান সইউই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেডের হয়ে খেলেন, আর ইমাম প্রতিনিধিত্ব করেন অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের।
পিসিবির নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে বিভাগীয় দলগুলোকে খেলোয়াড়দের ফিটনেস পরীক্ষা নিতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন জমা দিতে হয়।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠের পারফরম্যান্সও দুই ক্রিকেটারের জন্য স্বস্তির ছিল না। চার ইনিংসে রিজওয়ান করতে পেরেছেন মাত্র ৬১ রান। আর ইমাম লর্ডস টেস্টে কাফে চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ার পর আরও সমালোচনার মুখে পড়েন। ম্যাচের কোনো ইনিংসেই ব্যাট করতে নামেননি তিনি।
ইমামের চোটের গুরুতরতা নিয়েও তখন প্রশ্ন উঠেছিল। চতুর্থ দিনের খেলার আগের দিন তাকে অনুশীলন করতে দেখা গেলেও ম্যাচ শুরু হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত মাঠে নেমে ব্যাট করেননি তিনি। ফলে তার চোটের মাত্রা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও উপহাসের সৃষ্টি হয়।
