দোন্নারুম্মার বাড়িতে সেই ভয়াবহ ডাকাতি: মূল পরিকল্পনাকারীর ৯ বছরের কারাদণ্ড

প্যারিসের নিজ ফ্ল্যাটে ভয়াবহ এক ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। সে রাতে ডাকাতদের অমানবিক নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীও। লোমহর্ষক সেই ঘটনায় এবার দুই যুবককে কারাদণ্ড দিয়েছেন ফরাসি আদালত।

প্যারিসের অপরাধ আদালত এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী ২১ বছর বয়সী ইলিয়াস খেরবুশকে ৯ বছরের কারাদণ্ড এবং ৮০ হাজার ইউরো জরিমানা করেছেন। ঘটনায় জড়িত মোক্তার ডি নামের অপর এক আসামিকে দেওয়া হয়েছে ৫ বছরের কারাদণ্ড (যার ২ বছর স্থগিত)। তবে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পেয়েছেন জেলখানা থেকে ছক কষার অভিযোগে অভিযুক্ত খিয়ান এম।

সেই ঘটনাটি ২০২৩ সালের ২১ জুলাই রাতের। তখন দোন্নারুম্মা প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইয়ে (পিএসজি) খেলতেন (২০২৫ সালে তিনি ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন)। প্যারিসের অতি-অভিজাত এলাকা ‘অ্যাভিনিউ মন্তেন’-এর ৯ তলা ফ্ল্যাটে তখন ঘুমিয়ে ছিলেন দোন্নারুম্মা ও তার তৎকালীন বাগদত্তা (বর্তমানে স্ত্রী) আলেসিয়া এলেফান্তে।

গভীর রাতে ছাদ বেয়ে ঘরে ঢোকে চার মুখোশধারী ডাকাত। ঘুমন্ত অবস্থায় দুজনকেই টেনেহিঁচড়ে বিছানা থেকে নামানো হয়। এরপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। শক্ত মেটাল গ্লাভস পরা হাতে দোন্নারুম্মাকে রক্তাত্ব না হওয়া পর্যন্ত পিটানো হয়; মাথায় ধরে রাখা হয় ধারালো ছুরি। অন্যদিকে গর্ভবতী এলেফান্তের গলায় ফোনের চার্জিং ক্যাবল পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা চালায় ডাকাতেরা। এরপর দুজনকে আলাদা ঘরে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়।

মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ক্যাশ টাকা, দামি গয়না, ব্র্যান্ডেড ব্যাগ ও রোলেক্স ঘড়িসহ প্রায় ১০ লাখ ইউরোর (প্রায় ১১ লাখ ডলার) মালামাল লুটে নেয় সাত সদস্যের অপরাধী চক্রটি। শারীরিক নির্যাতনের চেয়েও বড় আঘাত নেমে আসে এই দম্পতির ওপর—ট্রমার কারণে কিছুদিন পরই এলেফান্তের গর্ভপাত ঘটে।

তারকাদের জন্য ‘ডেঞ্জার জোন’ আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, অভিজাত এলাকাটি সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ অপরাধী চক্রগুলোর হটস্পটে পরিণত হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত সাতজন খ্যাতিমান তারকা এই এলাকায় একই রকম সশস্ত্র অপরাধের শিকার হয়েছেন। এটি অত্যন্ত লাভজনক কিন্তু চরম সহিংস এক অপরাধ সিন্ডিকেটে রূপ নিয়েছে।

বিচারের শেষ দিনে মূল কারিগর খেরবুশ তার আচরণের জন্য আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে আসামি মোক্তার ডি দাবি করেন, তিনি ভেতরে ঢোকেননি, কেবল ভবনের ওপর দাঁড়িয়ে পাহারা দিয়েছিলেন।

 

Related Articles

Latest Posts