কুরিয়ার সার্ভিসে একটি কোকেন সদৃশ চালান জব্দের পর তদন্ত করতে গিয়ে চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্তকারীরা।
খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবন থেকে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম (সিটিটিসি) ইউনিট ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। তাদের পাসপোর্ট রয়েছে বাংলাদেশি নাগরিক মো. মহসিনের কাছে।
কুরিয়ারে আসা কোকেন সদৃশ বস্তুর সঙ্গে মহসিনের যোগসাজশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম।
গত শুক্রবার রাতে মহসিনকে খুলশী থেকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশ তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা করেছে। তবে গ্রেপ্তার বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট মহসিনের কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মহসিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তিনি চট্টগ্রামের গোল্ড স্টার নামে এক কোম্পানিতে চাকরি করেন।
আদালত থেকে প্রাপ্ত নথি বিশ্লেষণ এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুলশীর ২ নম্বর রোডের ‘স্টেড ফাস্ট’ কুরিয়ার সার্ভিসের অফিস থেকে গত ৫ আগস্ট একটি পার্সেল থেকে দুটি ছোট প্যাকেটে কোকেন সদৃশ ১১৮ গ্রাম পাউডার জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রিয়াদুল আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেই প্যাকেটগুলোতে গ্রহণকারীর নাম থাকলেও প্রেরকের নামের অংশ খালি ছিল। চালানটি ঢাকার উত্তরার একজনের নামে গিয়েছিল। তিনি পার্সেলটি গ্রহণ না করায় ফেরত আসে। বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ৬ সেপ্টেম্বর খুলশী থানার এআই আসাদুল হক বাদী হয়ে মামলা করেন।
এ বিষয়ে ওসি আব্দুর রহিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জব্দকৃত বস্তুকে কোকেন হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার পর সিটিটিসি তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তে নাম আসে মহসিনের।’
তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে মহসিন যেসব তথ্য দিয়েছে, যেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ৬৩ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট তার কাছে। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সার্বিক বিষয়ে আরও ভালো বলতে পারবেন।’
কোকেন জব্দের মামলাটি তদন্ত করছেন খুলশী থানার এসআই তানভীর ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ‘মহসিনকে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তারে সাহায্য করেছে সিটিটিসি। তার কাছে কোকেন কীভাবে এলো, সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি।’
সিএমপি সিটিটিসির উপকমিশনার (ডিসি) শামীম হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেল এবং বিদেশিদের বাসা ভাড়া ও পাসপোর্ট নেওয়ার ঘটনায় মহসিন নামটা এসেছে। দুই ঘটনার মহসিন একজনই। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মচারী। কোকেন যে চালানে এসেছে সেই চালানের একটি অংশ মহসিন বলে আমরা প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছি। এর পেছনে আরও অনেকে হয়তো আছে, যা তদন্তে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট অন্য একজনের কাছে হস্তান্তর করেছেন মহসিন। আমরা বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় মহসিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছি। একইসঙ্গে বিদেশিদের ৭ দিন রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।’
‘কোকেন মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। আমরা সেটি আমাদের কাছে নিয়ে আসার জন্য কমিশনারের কাছে রিকুইজিশন দিচ্ছি,’ যোগ করেন তিনি।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২২ জন, নেপালের একজন, ভিয়েতনামের একজন এবং চীনের ৫ জন রয়েছেন। এ ছাড়া, তাদের সঙ্গে রয়েছে একটি শিশু। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২০ জন নারী।
নিজ দেশের নাগরিকদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো। পাসপোর্ট না থাকায় নাগরিকদের তথ্য নিয়ে তা নিজেদের মাধ্যমে ভেরিফাই করতে পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছেন তারা।
খুলশী থানার ওসি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দূতাবাস থেকে আমাদের কাছে তথ্য চাওয়া হচ্ছে। আমরা আইন মেনে সেগুলো দিচ্ছি।’
