নিখোঁজের ১৫ বছর পর ভারত থেকে দেশে ফিরলেন আঞ্জু

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ বছর পর ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা আঞ্জু (৩৫)।

গতকাল বুধবার রাতে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বিশেষ ট্রাভেল পারমিট নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ইমিগ্রেশন ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে আঞ্জুকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর মেয়েকে ফিরে পেয়ে মা জোসনা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক খুঁজেও সন্ধান পাইনি। একসময় আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখন মেয়েকে ফিরে পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন আঞ্জু। পথ হারিয়ে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েন। দীর্ঘ কয়েক বছর পর ২০১৭ সালের দিকে কলকাতার পাভলভ মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার সন্ধান পাওয়া যায়।

সেখানে চিকিৎসা শেষে কলকাতার মানবাধিকার সংগঠন ‘ঈশ্বর সংকল্প’ আঞ্জুকে হেফাজতে রেখে তার পরিবারের খোঁজ শুরু করে। এই উদ্যোগে যুক্ত হন অ্যামেচার রেডিও সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বনানী রোটারি ক্লাবের সদস্য মো. শামসুল হুদা। তারা ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে আঞ্জুর পরিবারের সন্ধান পান।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আঞ্জুকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে জাতীয়তা যাচাইসহ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করা হয়।

মো. শামসুল হুদা জানান, আঞ্জুর দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিবারের খোঁজ পাওয়া সম্ভব হয়।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে গতকাল রাতেই আঞ্জু তার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বেনাপোল থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।

Related Articles

Latest Posts