শুরুতে ব্যাটিংয়ে প্রবল চাপে পড়েছিল স্বাগতিকরা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকালেন ম্যাথিউ ব্রিটজকে, আর শেষ দিকে আগ্রাসী ইনিংসে দলকে তিনশোর কাছাকাছি পৌঁছে দিলেন মার্কো ইয়ানসেন। জবাব দিতে নেমে রান তাড়ায় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া যখন উড়ন্ত সূচনায় ম্যাচ নিয়ে যাচ্ছিল নিজেদের মুঠোয়, তখনই বল হাতে ঝলক দেখালেন কেশব মহারাজ ও বিয়র্ন ফরচুইন। স্পিনের দারুণ ভেল্কিতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। একই সঙ্গে বুঝিয়ে দিল তাদের স্কোয়াডের সামর্থ্যের গভীরতা।
ডারবানের কিংসমিডে টস জিতে স্বাগতিকদের আগে ব্যাটিংয়ের পথ দেখায় অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯৭ রান তোলে প্রোটিয়ারা। রান তাড়ায় নেমে কেশব মহারাজের ঘূর্ণিজালে আটকে ৪১.২ ওভারে ২৩০ রানেই থামে সফরকারীদের ইনিংস। ৬৭ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৪০ রানের মধ্যেই দুই ওপেনার টনি ডি জর্জি (০) ও কুইন্টন ডি কককে (১৪) হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ৩০ রান করে বিদায় নিলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালান ব্রিটজকে। ১০৬ বলে ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ১১২ রানের মনমুগ্ধকর এক ইনিংস খেলেন তিনি।
শেষ দিকে অস্ট্রেলীয় বোলারদের ওপর রীতিমতো তান্ডব চালান ইয়ানসেন। তিনি ৫৯ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় অপরাজিত ৭৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস উপহার দিলে বড় পুঁজি পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৫৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট সংগ্রহ করেন নাথান এলিস।
মার্শের ঝড় থামিয়ে মহারাজের কামড়
২৯৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যে খেলতে নেমে ঝড়ো সূচনা করেন দুই অজি ওপেনার মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড। মাত্র ৯.২ ওভারেই দলীয় স্কোরে ৯০ রান তুলে ম্যাচ স্বাগতিকদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তারা। ৩৬ বলে ৫টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৬০ রানের ইনিংস খেলে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা অধিনায়ক মার্শকে ফেরান কেশব মহারাজ। তার পরপরই ৩৭ বলে ৩৬ রান করা হেডকেও সাজঘরে পাঠান তিনি।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। মধ্যভাগে ম্যাট রেনশ (৪৪) ও কুপার কনলি (৩৮) কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও বাকিরা আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের নায়ক কেশভ মহারাজ ১০ ওভার বোলিং করে মাত্র ২০ রানের বিনিময়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের কোমর ভেঙে দেন। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে বিয়র্ন ফরচুইন ও করবিন বশ নেন ২টি করে উইকেট। চমৎকার শতকের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন ব্রিটজকে।
