লুলাকে পেছনে ফেলে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে ফ্লাভিও

ব্রাজিলে রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রতিটি আসনে জয় পেয়েছে বলসোনারো পরিবারের সদস্যরা।

প্রথম দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাবেক ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে পেছনে ফেলেছেন। পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও কংগ্রেসে আসন পেয়েছেন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দফার ভোটে ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৭ শতাংশ ভোট। লুলা পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ।

প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি বৈধ ভোট না পাওয়ায় শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার (রান-অফ) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

৪৫ বছর বয়সী সিনেটর ফ্লাভিওকে পরিবারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার জন্য বেছে নেন তার বাবা জইর বলসোনারো। অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে জইর বলসোনারোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এএফপি জানিয়েছে, বলসোনারো পরিবারের অন্য সদস্যরাও নির্বাচনে ডানপন্থী ঢেউয়ের সুবিধা পেয়েছেন। এর ফলে বলসোনারোর লিবারেল পার্টি সিনেটে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ৫৪টি সিনেট আসনের মধ্যে দলটি পেয়েছে ১৯টি। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

জইর বলসোনারোর স্ত্রী মিশেল বলসোনারো রাজধানী ব্রাসিলিয়ার ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট থেকে সিনেটর পদে প্রার্থী হয়ে অন্য সব প্রার্থীর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ৪৪ বছর বয়সী মিশেল ২০৩০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা ভাবছেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর দ্বিতীয় ছেলে ৪৩ বছর বয়সী কার্লোস বলসোনারো দক্ষিণাঞ্চলীয় সান্তা ক্যাটারিনা রাজ্যে সিনেটর প্রার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন।

তৃতীয় ছেলে ৪২ বছর বয়সী এদুয়ার্দো বলসোনারো গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর আইনপ্রণেতা হিসেবে তার আসন ছেড়ে দেন।

এএফপি জানিয়েছে, জইর বলসোনারোর সবচেয়ে ছোট ছেলে ২৮ বছর বয়সী জইর রেনান একই রাজ্য থেকে ফেডারেল ডেপুটি নির্বাচিত হয়েছেন। জইর বলসোনারোর ৬২ বছর বয়সী ভাই রেনাতো বলসোনারোও সাও পাওলো থেকে ফেডারেল ডেপুটি নির্বাচিত হয়েছেন।

ফ্লাভিও বলসোনারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তার পরিবারের দুই সিনেটর ও দুই ফেডারেল আইনপ্রণেতাকে পাশে পাবেন। এর মাধ্যমে তিনি কারাগারে থাকা তার বাবাকে সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারবেন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ভোটের প্রয়োজন হবে।

বলসোনারোর লিবারেল পার্টি চেম্বার অব ডেপুটিজেও সবচেয়ে বড় দল হবে।

তবে লুলা পুনর্নির্বাচিত হলেও রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিজের নীতিগুলো বাস্তবায়ন করতে তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

Related Articles

Latest Posts