মাঠের বাইরে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ধাক্কা। মাঠে নামতেই প্রতিপক্ষ সমর্থকদের কাছ থেকে একের পর এক ‘প্রতারক’ দুয়ো। এমন উত্তপ্ত পরিবেশেও মাথা ঠান্ডা রাখে ম্যানচেস্টার সিটি। অ্যানফিল্ডে ১০ জনের লিভারপুলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে তিন পয়েন্টের ব্যবধান ফিরিয়ে আনল আর্লিং হালান্ডরা।
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগে স্বাধীন কমিশনের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এটিই ছিল সিটির প্রথম ম্যাচ। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ক্লাবটি। তবে শাস্তি কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার, অবনমন কিংবা রেকর্ডসংখ্যক পয়েন্ট কর্তনের মতো কঠোর শাস্তির আশঙ্কাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এনজো মারেসকার দল মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে অন্তত নিজেদের শিরোপা অভিযানে কোনো প্রভাব পড়তে দেয়নি।
ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই অ্যানফিল্ডের গ্যালারিতে ছিল উত্তেজনা। সিটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে লিভারপুল সমর্থকেরা একের পর এক স্লোগান দেন। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘এক প্রজন্মের সমর্থকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।’ পাল্টা জবাব দেন সিটির সমর্থকেরাও। ক্লাবের মালিকপক্ষের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাদের হাতে দেখা যায় ‘ইন খালদুন উই ট্রাস্ট’ লেখা পতাকা।
গ্যালারির উত্তাপ অবশ্য প্রথমার্ধে মাঠের খেলায় খুব একটা ছড়ায়নি। প্রতিকূল পরিবেশ সামলাতে শুরু থেকেই ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে সিটি। অন্যদিকে আক্রমণে সুবিধা করতে পারছিল না লিভারপুলও। ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর অবশ্য বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। পরপর দুটি সুযোগ তৈরি করে লিভারপুল। ভিক্টর মুনোজ ও রায়ান গ্রাভেনবার্খের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে সিটিকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। অন্য প্রান্তে এককভাবে গোলরক্ষককে পেয়েও বল বাইরে পাঠিয়ে হতাশায় মাথায় হাত দেন হালান্ড।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় গ্রাভেনবার্খের লাল কার্ডে। জেরেমি ডকুকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার। তাতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিকেরা। একজন বেশি নিয়ে এরপর আক্রমণের ধার বাড়ায় সিটি।
৬৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে গোল করে ডেডলক ভাঙেন হালান্ড। তিন মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বদলি হিসেবে নামা ডকু। তার দুর্দান্ত শট গিয়ে জড়ায় জালের ওপরের কোণে। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় লিভারপুল।
৭৮ মিনিটে স্বাগতিকদের ফেরার শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেন রায়ান শেরকি। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের দারুণ প্রদর্শনীতে গোল করে সিটির জয় নিশ্চিত করেন এই ফরাসি ফুটবলার। শেষ পর্যন্ত অ্যানফিল্ড থেকে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সিটি।
