ক্লাব কর্তৃপক্ষের সমালোচনার পর অবস্থান পরিষ্কার করলেন লিসান্দ্রো

হারের হতাশায় ক্লাব কর্তৃপক্ষের দিকেই আঙুল তুলেছিলেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের স্কোয়াডের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি জানিয়েছিলেন, বারবার কোচ বদলালেই সমস্যার সমাধান হবে না। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের এমন মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এক দিন পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। জানালেন, ক্ষোভ থেকেই কথাগুলো বলেছিলেন তিনি। তবে কাউকে দায়মুক্তি দেওয়া নয়, ইউনাইটেডকে আবার সাফল্যের শিখরে দেখার তাড়না থেকেই এসেছে তার এমন প্রতিক্রিয়া।

মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকা মাইকেল ক্যারিকের দল চলতি মৌসুমে ৯ ম্যাচ খেলে জিতেছে মাত্র দুটিতে।

এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ক্লাবের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন লিসান্দ্রো। বিশেষ করে কারিগরি পরিচালক জেসন উইলকক্সের দিকে ইঙ্গিত করে অভিযোগ করেন, গত মৌসুমের সাফল্যের ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে দলকে আরও শক্তিশালী করার যে প্রত্যাশা ছিল, সেটি পূরণ হয়নি।

ম্যাচ শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘গত মৌসুমটা আমরা দারুণ কাটিয়েছিলাম। আশা ছিল এবার স্কোয়াড আরও শক্তিশালী করা হবে। কিন্তু সত্যি বলতে, বড় ম্যাচের জন্য যে গভীরতা দরকার ছিল, তা তৈরি করা হয়নি। ১০০ ভাগ প্রত্যাশা ছিল নতুন খেলোয়াড় আসবে। আজ কোচ বা ফুটবলারদের দোষ দেওয়া সহজ, কিন্তু ভেতরের অন্য জায়গাগুলোতেও চোখ দেওয়া উচিত।’

বারবার কোচ বদলে মূল সমস্যা আড়াল করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন বিশ্বকাপজয়ী এই ডিফেন্ডার। তার সেই বক্তব্য নিয়েই আলোচনা তৈরি হলে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন লিসান্দ্রো।

বিবৃতির শুরুতেই তিনি লেখেন, ‘গতকাল আমার মন্তব্য নিয়ে যা কিছু বলা হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি কী বলেছিলাম এবং আসলে কী অনুভব করছি, সে বিষয়ে কিছু কথা জানাতে চাই। ম্যাচের পর আমি ক্ষোভ ও হতাশা থেকে কথাগুলো বলেছিলাম। কারণ, আমরা সবাই যে ফল চেয়েছিলাম, তা পাইনি।’

নিজের আবেগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে লিসান্দ্রো বলেন, ‘যারা আমাকে চেনেন, তারা জানেন আমি কতটা আবেগ, নিবেদন ও জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ফুটবল খেলি। যখন কিছু আমাদের পক্ষে যায় না, তখন সেটি কষ্ট দেয়। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো ইতিহাস ও মর্যাদাসম্পন্ন একটি ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করার সময়।’

তবে আগের দিনের মন্তব্য থেকে পুরোপুরি সরে আসেননি লিসান্দ্রো, ‘আমার কথাগুলো আসলে আমার অনুভূতিরই প্রতিফলন। আমি কতটা চাই এই ক্লাব আবার বড় বড় শিরোপার জন্য লড়ুক, সেটিই প্রকাশ পেয়েছে। এই উচ্চ মানদণ্ডই আমার ফুটবল ভাবনার অংশ। এই জার্সি পরার সঙ্গে যে দায়িত্ব জড়িয়ে আছে, সেটিও আমি এভাবেই দেখি।’

আরও ভালো করার প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে কাউকে আলাদাভাবে দোষারোপ করা তার উদ্দেশ্য ছিল না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন লিসান্দ্রো, ‘আমি যখন আরও বেশি কিছু চাওয়ার কথা বলি, তখন আসলে এই ক্লাবের অংশ হিসেবে আমাদের সবার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা উচিত, সেটির কথাই বলি। আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে, আরও শক্তিশালী হতে হবে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু নিশ্চিত করতে হবে। এই মানদণ্ড আমাদের প্রত্যেকের নিজের জন্য নির্ধারণ করা উচিত, শুরুটা আমাকে দিয়েই।’

আগের মন্তব্যে ক্লাব পরিচালনার অন্যান্য বিভাগের ব্যর্থতার কথা তুললেও নতুন বিবৃতিতে মাঠের পারফরম্যান্সের দায় নিজেদের কাঁধেই নিয়েছেন লিসান্দ্রো, ‘আমি জানি, সবার আগে মাঠে পারফর্ম করার দায়িত্ব আমাদের, খেলোয়াড়দের। আর সেই দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেকেই সবার সামনে রাখছি। নিজেদের কাছ থেকে আমাদের আরও বেশি কিছু দাবি করতে হবে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে আবার শীর্ষে ফিরিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

সতীর্থ ও কোচিং স্টাফের প্রতিও নিজের আস্থার কথা জানিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার, ‘আমি আমার সতীর্থদের ওপর বিশ্বাস রাখি, আমাদের কোচের ওপর বিশ্বাস রাখি এবং ক্লাবকে এগিয়ে নিতে কাজ করা প্রত্যেকের ওপরই আস্থা আছে। আমি নিশ্চিত, সামনে এগোনোর পথ একটাই, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নিবেদন নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে যাওয়া।’

সবশেষে ইউনাইটেডের প্রতি নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে লিসান্দ্রো লেখেন, ‘প্রথম দিন থেকে আমার লক্ষ্য একই আছে। জেতা, সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং এই ক্লাবের প্রতীকের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া।’

 

Related Articles

Latest Posts