প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের চুল টেনে লাল কার্ড দেখেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে আরও বিপদ বাড়ান। তাতে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা। এমন শাস্তি কিছুতেই মানতে পারছেন না তিনি। নিজের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ভিনিসিয়ুসের দাবি, ক্যারিয়ারে কখনো কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে এমন আচরণ করেননি তিনি।
চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জানার পর মুখ খুলেছেন ভিনিসিয়ুস। স্প্যানিশ ফুটবলের প্রতিযোগিতা কমিটির দেওয়া শাস্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকে কিছু না জানানোয় ক্ষুব্ধ তিনি।
ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘আমার মনে হয়, নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তটি একেবারেই ভুল সময়ে এসেছে। পুরো দিন তাদের হাতে সময় ছিল শাস্তির সিদ্ধান্ত জানানোর। অথচ আমি স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পরই বিষয়টি জানতে পারি। নিয়মটি নতুন। লা লিগার কর্মকর্তারা সাধারণত নতুন নিয়মগুলো আমাদের বুঝিয়ে দেন। কিন্তু এবার সেটি করা হয়নি।’
তবে নিষেধাজ্ঞার সময়ের চেয়েও নিজের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণের অভিযোগ নিয়ে বেশি আপত্তি ব্রাজিলিয়ান তারকার, ‘আমি কখনো কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ করিনি। অথচ আমাকে অনেকবার ফাউল করা হয়। সেসব ক্ষেত্রে সাধারণত একটি হলুদ কার্ড দেখিয়েই বিষয়টি শেষ করা হয়।’
রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়েও দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে ভিনিসিয়ুসের। তার অভিযোগ, আক্রমণভাগে খেলার কারণে প্রায়ই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ফাউলের শিকার হতে হয় তাকে। কিন্তু অনেক সময় প্রত্যাশিত সুরক্ষা পান না তিনি।
এ প্রসঙ্গে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘প্রতিপক্ষের সমর্থকেরা আমাকে দুয়ো দিতেই পারে। কারণ, আমি তাদের দলের বিপক্ষে গোল করতে মাঠে নামি। কিন্তু রেফারিদের ব্যাপারটা বুঝতে পারি না। একটি পরিসংখ্যানে দেখেছি, আমি প্রায় ৫০০ বার ফাউলের শিকার হয়েছি। অথচ পাঁচটি লাল কার্ড আর কতগুলো হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে, সেটি জানি না। শেষ পর্যন্ত হলুদ কার্ড যেন সব সময় ভিনির জন্যই থাকে। বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়।’
শুধু নিজের জন্যই নয়, আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা অন্য তারকাদের সুরক্ষার বিষয়টিও সামনে এনেছেন ভিনিসিয়ুস। উদাহরণ হিসেবে বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল ও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি, ‘যেসব খেলোয়াড় মাঠে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করে, তাদের সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। যেমন বার্সেলোনার লামিনে কিংবা অ্যাতলেতিকোর হুলিয়ান।’
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নিজের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের দায় এড়াননি ভিনিসিয়ুস। প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে না পারায় নিজের ওপরই বিরক্ত তিনি। এমনকি ম্যাচে বদলি হওয়ার পর তার অসন্তোষের পেছনেও ছিল নিজের সেরাটা দিতে না পারার হতাশা।
ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘বদলি হওয়ার পর আমার রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ, আমি সব সময় নিজের সেরাটা দিতে চাই, দলকে সাহায্য করতে চাই। তবে বদলিগুলো দলের খেলায় পরিবর্তন এনেছে। এন্দ্রিক ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে, সে-ই ছিল সেরা খেলোয়াড়। কার্লোসও অল্প সময়ের জন্য নেমে গোল করেছে।’
এরপর নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিজের ওপরই রাগ করছি। কারণ, নিজের সেরাটা দিতে পারছি না। তবে শেষ পর্যন্ত ভিনি সব সময়ই ঘুরে দাঁড়ায়। এবারও আমি ফিরব, এ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’
সাম্প্রতিক সময়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিজেদের সমর্থকদের দুয়োও শুনতে হয়েছে ভিনিসিয়ুসকে। বিষয়টি তার ভালো না লাগলেও দর্শকদের প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকারকে সম্মান করেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘দুয়ো অবশ্যই আমাকে সাহায্য করে না। কিন্তু মানুষ টিকিট কেটে খেলা দেখতে আসে। সমর্থকেরা পাশে থাকলে আমরা আরও ভালো খেলি। জুড (বেলিংহাম) ভালো খেলে, এমবাপে ভালো খেলে, আমিও ভালো খেলি। আমার মনে হয়, আমাকে দুয়ো দেওয়া সহজ। কারণ, আমি এখানে অনেক দিন ধরে আছি এবং দলের অধিনায়কদের একজন।’
তবে নিষেধাজ্ঞা, সমালোচনা কিংবা সমর্থকদের দুয়ো, কোনো কিছুতেই দমে যেতে রাজি নন ভিনিসিয়ুস। অতীতের কঠিন সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি, ‘আমি আবার ফিরে আসব। যখন কম বয়সে এখানে এসেছিলাম, অনেকেই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। অথচ শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আমি ১০০টির বেশি গোল করেছি।’
