স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে লড়াই করতে পারেনি বাংলাদেশ, তবে ৩-০ ব্যবধানে উড়ে গেলেও প্রাপ্তির খাতা শূন্য নয়, বরং ইতিবাচক অনেক কিছু খুঁজে পাচ্ছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠের পারফরম্যান্সে তরুণদের ইতিবাচক মানসিকতা ও ব্যক্তিগত কিছু অর্জনকে ভবিষ্যৎ অগ্রগতির বড় জ্বালানি হিসেবে দেখছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে গিয়েছিল টাইগ্রেসরা। মাঠের লড়াইয়ে প্রত্যাশিত ফলাফল না মিললেও সফরের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে স্থানীয় গণমাধ্যমকে জ্যোতি বলেন, ‘দল হিসেবে আমাদের সময়টা কঠিন গেছে, যেহেতু আমরা এখানে একটা ম্যাচও জিততে পারি নাই। পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও আমরা কিছুটা সংগ্রাম করেছি। তবে ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে দেখেছি। তাই এক দিক থেকে এটিকে আমি বড় একটি অর্জনই বলব।’
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করেন সোবহানা মুশতারি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের মেয়েদের যা প্রথম। ফিফটি করেন জ্যোতি নিজে, গড়েন ১৯৫ রানের রেকর্ড জুটি। তবে ম্যাচের ফলে এসবের কোন প্রভাব ছিলো না। অজিরা ম্যাচ জিতে নেয় তুড়ি মেরে।
এই সফরে দুই নবীন পেসারকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিকেও আলাদা করে তুলে ধরলেন তিনি, ‘আমরা নতুন দুইজন পেস বোলারকে এখানে ম্যাচ খেলার সুযোগ দিয়েছি। আগে আমরা সচরাচর এক-দুইজন পেস বোলারের ওপর, বিশেষ করে মারুফার ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিলাম। সেখান থেকে এখানে দুইজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ পেস বোলারকে তুলে আনতে পেরেছি। এই অর্জনগুলো আমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।’
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘উপমহাদেশের যেকোনো দল যখন এখানে খেলতে আসে, তা ছেলে বা মেয়ে ক্রিকেট হোক, সবাইকেই শুরুতে মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়। তবে প্রতি ম্যাচেই আমরা আগের চেয়ে উন্নতি করার চেষ্টা করেছি। প্রথম ম্যাচের তুলনায় দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আমাদের ব্যাটিং দলগতভাবে অনেক গোছানো ছিল।’
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সোবহানা মোস্তারির অনবদ্য ১১৮ রানের ইনিংস ও জ্যোতির সঙ্গে রেকর্ড ১৯৫ রানের জুটির পাশাপাশি অন্যান্যদের উদীয়মান পারফরম্যান্সকে ভবিষ্যতের সম্পদ হিসেবে দেখছেন তিনি। জ্যোতি বলেন, ‘স্পিন বিভাগে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই রাবেয়া দারুণ বোলিং করেছে। ফাহিমা ইসলাম পিংকির বোলিংও প্রশংসনীয় ছিল। এই খেলোয়াড়দের যদি আরও নিয়মিত সুযোগ তৈরি করে দেওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে তারা দলের বড় শক্তিতে পরিণত হবে।’
বিশ্বের শীর্ষ সারির বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হয়ে পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করার অভিজ্ঞতাকেও অনেক বড় শিক্ষণীয় অধ্যায় হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক, ‘বিশ্বের শীর্ষ দশ বোলারের তালিকায় থাকা পাঁচজন বোলারকে এই সিরিজে ফেস করতে হয়েছে। তাদের বিপক্ষে দায়িত্ব নিয়ে পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করে রান করাটা শেখার বড় সুযোগ। সামনেই আমাদের নিউজিল্যান্ড সফর আছে, সেখানকার কন্ডিশনে এই অভিজ্ঞতা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
