শরীয়তপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে প্রসবের চেষ্টা করানোর সময় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের দাবি, গর্ভে শিশুর উল্টো অবস্থান জেনেও সিজারের জন্য চার ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল। পরে শিশুর পা বের হয়ে এলে নার্সরা টেনে বের করার চেষ্টা করেন। তবে মাথা আটকে যাওয়ায় শিশুটি মারা যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ১৯ বছর বয়সী স্বপ্না বেগমকে ‘হাজী শরীয়তুল্লাহ জেনারেল হাসপাতাল’ নামের ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। স্বপ্নার স্বামী সজল হাওলাদার কাজের সূত্রে ঢাকায় থাকেন। অন্তঃসত্ত্বা স্বপ্নার দেখাশোনার জন্য তিন মাস আগে তাকে শরীয়তপুরের নড়িয়ার জয়নগর এলাকায় মায়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
স্বপ্নার মা সালমা আক্তার বলেন, ‘ক্লিনিকে আনার পরই তাদের জানিয়েছিলাম যে বাচ্চার অবস্থান উল্টো। তারা বারবার বলেছে, চিকিৎসক এলে সিজার করা হবে। কিন্তু চার ঘণ্টা পার হলেও চিকিৎসক আসেননি। পরে শিশুর পা বের হয়ে গেলে দুই নার্স স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেন। এতে মাথা আটকে গিয়ে বাচ্চার মৃত্যু হয়।’
পরিবার জানায়, রাত ১১টার দিকে শিশুর পা বের হয়ে এলে ক্লিনিকের দুই নার্স স্বপ্নাকে অন্য ক্লিনিকে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু ওই অবস্থায় তা সম্ভব ছিল না। পরে পাশের ক্লিনিক থেকে একজন গাইনি ডাক্তারকে ডেকে আনা হয়। তবে শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তিনি দায়িত্ব নিতে রাজি হননি।
পরে দুই নার্স প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা করে মৃত শিশুটিকে বের করেন। রাত আড়াইটার দিকে স্বপ্নার অবস্থার অবনতি হলে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পালং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্লিনিকের মালিক নয়ন সরকার বলেন, ‘রাতে আমাদের নিয়মিত চিকিৎসক থাকেন না। সে সময় অন্য চিকিৎসক এনে সেবা দেওয়া হয়। ওই রাতে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টার সময় শিশুর পা বের হয়ে যায়। পরে এক চিকিৎসক এলেও তিনি ঝুঁকি নিতে চাননি। শিশুটি মায়ের গর্ভেই মারা যায়।’
এ সময় আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) উপস্থিত ছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন পুরুষ আরএমও ছিলেন, তবে নারী রোগী দেখায় তার সীমাবদ্ধতা ছিল।
তবে ক্লিনিকের আরএমও ডা. মো. শরিফুল ইসলাম অবহেলার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘শিশুটির মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা নার্সরা আমাকে জানাননি। জানালে সঠিক পরামর্শ দিতে পারতাম। রাত ১১টার দিকে আমাকে জানানো হয়। গিয়ে দেখি শিশুর পা বের হয়ে আছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, শিশুর উল্টো অবস্থান জানার পরও পরিবারের সদস্যরা আগে থেকে সিজারের ব্যবস্থা করেননি।
শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন বলেন, ক্লিনিকটির অনুমোদন রয়েছে। তারা সর্বশেষ ২০২৩-২৪ সালে অনুমোদন নবায়নের আবেদন করে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
