পল্লবীর আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় জনসাধারণকে বিভ্রান্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে প্রধান আসামি সোহেল রানা তৃতীয় আরেকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ সোমবার এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর দিনে আদালতে নেওয়ার সময় নিজের দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সোহেল দাবি করেন, ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তি শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে।
পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. ওহিদুজ্জামান জানান, আলামত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যপ্রমাণে নিশ্চিত হয়েছে যে সোহেলই শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে এবং এ ঘটনায় কোনো তৃতীয় পক্ষ জড়িত ছিল না।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন নাম উল্লেখ করছে যাতে সে নিজের অপরাধ আড়াল, তদন্তকে বিভ্রান্ত, বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি ও জনমনে গুজব ছড়াতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধ গোপন করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মরদেহ টুকরো করার চেষ্টা করছিল সে। এ সময় প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে চলে আসলে সে জানালা ভেঙে পালিয়ে যায়। তার স্ত্রী অপরাধ ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ নেননি, বরং তাকে পালাতে সহায়তা করেছেন। ফলে তিনিও সমানভাবে দায়ী।’
শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লাও জানান, নিজের বাঁচার জন্যই আদালত প্রাঙ্গণে সোহেল এই নাটক সাজিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছে সে। গ্রেপ্তারের পর তার স্ত্রীও বলেছিল, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সময় ঘরের ভেতরে শুধু সে এবং সোহেলই ছিল।’
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের শয্যা থেকে তিনি বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব বিচার চাই।’
এর আগে দিনের শুরুতে আদালত প্রাঙ্গণে সোহেল চিৎকার করে বলেন, ‘ধর্ষণ আমি করিনি, আমি শুধু লাশ টুকরো করেছি। ডলার নামে একজন ধর্ষণ করেছে। আমি পাপ করেছি, সেই পাপের শাস্তি দিন।’
ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আদালতে নেওয়ার সময় সোহেল আরও দাবি করেন, মেয়েটিকে ডলারের কাছে নিয়ে গেলে তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন নির্দোষ।
সকালে সোহেল ও স্বপ্নাকে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।
পরে শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ওই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, অভিযোগ পাঠ করে শোনানোর পর উভয় আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশী সোহেলের বাসা থেকে শিশুটির খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
