কেএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার আরও ৩৩

খুলনায় চলমান বিশেষ যৌথ অভিযানে আরও ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। এর ফলে গত ২ জুন শুরু হওয়া এই অভিযানে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৬।

কেএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদের মধ্যে খুলনা থানা থেকে ৯ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানা এলাকা থেকে ১০ জন, লবণচরা থানা থেকে চারজন, খালিশপুর থানা থেকে তিনজন, দৌলতপুর থানা থেকে দুজন, খানজাহান আলী থানা থেকে তিনজন এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

অভিযানকালে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

কেএমপি বলেছে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অপরাধপ্রবণ লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়া, পুটিমারি, শিশুবাগান, আশি বিঘা ও কৃষ্ণনগর এলাকায় চারটি অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ফাঁড়িতে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কেএমপির তথ্যমতে, গত চার দিনের অভিযানে তালিকাভুক্ত চারজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যে বিভিন্ন মামলার আসামি, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী এবং চুরির অভিযোগে অভিযুক্তরা আছেন।

তবে এ অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খুলনার সহ-সভাপতি গৌরাঙ্গ নন্দী। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা সবকিছুই জানেন। বিভিন্ন সংস্থার লোকজন নিয়মিত মাঠে থেকে এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। কিন্তু শুধু পুলিশের আন্তরিকতা থাকলেই হবে না, রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ অভিযানে শুধু চুনোপুঁটি ধরলে হবে না। জনমনে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। শুধু ছিঁচকে অপরাধীদের ধরলে সেটিকে লোকদেখানো অভিযান বলেই মনে হবে।’

কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

Related Articles

Latest Posts