বিভিন্ন সীমান্তে ভারত থেকে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) প্রবণতা নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগের মধ্যেই হবিগঞ্জ সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়ন।
সীমান্ত সুরক্ষায় থার্মাল ড্রোনের ব্যবহার, দিনরাত টহল জোরদার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে বিজিবি।
৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকাজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ, গ্রাম পুলিশ এবং আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করে সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চি পাহারা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাতে নজরদারির জন্য থার্মাল ইনফ্রারেড ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উঠান বৈঠকের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।
তিনি নিশ্চিত করেন, দেশের বিভিন্ন পয়েন্টে সম্প্রতি পুশ ইনের ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। তবে ব্যাটালিয়ন বর্তমানে উচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গত শনিবার রাতে বিজিবি সদস্যরা বেশ কিছু সীমান্ত এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করে বাসিন্দাদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ডের কথা দেরি না করে বিজিবিকে জানাতে বাসিন্দাদের উৎসাহিত করতে উঠান বৈঠকও করেন তারা। এই প্রচেষ্টায় স্থানীয় গ্রাম পুলিশ এবং আনসার-ভিডিপি সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বিজিবির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। চুনারুঘাট উপজেলার গুইবিল এলাকার ভ্যানচালক মজনু মিয়া বলেন, রাতে মাইকিং করায় এলাকাবাসী সতর্ক হয়েছে। দিনরাত বিজিবি সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে জেনে আমরা নিরাপদ বোধ করছি।
মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়ার চা শ্রমিক মোহন লাল বলেন, বিজিবির ব্রিফিংগুলো খুব তথ্যবহুল ছিল। তারা পুশ ইন কী এবং কীভাবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হয়, তা বিস্তারিত বুঝিয়ে বলেছেন। আমরা এখন অনেক বেশি সচেতন।
বিজিবির ওই কর্মকর্তা জানান, হবিগঞ্জ জেলার ১০৩ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে ৫৫ ব্যাটালিয়ন। ১৬টি সীমান্ত ফাঁড়ির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রতিটি ফাড়িতে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সব সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা, নজরদারি কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যবেক্ষণ ও তথ্য দেওয়ায় মূল ভূমিকা পালন করছেন।
