টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় সাঙ্গু নদীতে পাহাড়ি ঢল নেমেছে। পানির প্রবাহ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আজ সোমবার সকালে একটি পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে গেছে। তবে নৌকায় থাকা পাঁচ পর্যটক, মাঝি ও তার ছেলে সবাই অক্ষত আছেন।
একইসঙ্গে সাঙ্গু নদীর উজানের তিন্দু, রেমাক্রি ও নাফাখুম এলাকায় আপাতত ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য পর্যটকদের মৌখিকভাবে সতর্ক করছে উপজেলা প্রশাসন।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল সোমবার দুপুরে দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, রোববার বিকেল ৩টার দিকে মাঝি মো. আবু বক্কর তার ছেলে মো. তারেককে সঙ্গে নিয়ে পাঁচজন পর্যটককে রেমাক্রি নিয়ে যান। সোমবার সকালে একই নৌকায় পর্যটকদের নিয়ে থানচির উদ্দেশে ফেরার পথে তিন্দুর রাজা পাথর এলাকায় নৌকাটি ডুবে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী তিন্দু বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা অংক্য থুই মারমা বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেমাক্রী থেকে ফেরার পথে তিন্দুর বড় পাথর এলাকায় নৌকাটি ডুবে যায়। তবে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আগেই বুঝতে পেরে মাঝি পাঁচ পর্যটককে বিপজ্জনক স্রোতের আগেই নিরাপদ স্থানে নামিয়ে দেন, যাতে তারা পায়ে হেঁটে ওই অংশ পার হতে পারেন। পরে খালি নৌকাটি স্রোত পার হওয়ার সময় প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ দাবি করেন, সাঙ্গু নদীর পানি বাড়তে থাকায় তিন্দু, রেমাক্রি ও নাফাখুম এলাকায় বর্তমানে দেড় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।
তিনি জানান, এর মধ্যে শুধু নাফাখুমেই আটকে আছেন প্রায় ৭০ জন। তাদের সঙ্গে সমিতির সভাপতিও রয়েছেন। বৃষ্টি কমে নদীর পানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফেরা সম্ভব হবে না।
তবে পর্যটক আটকে পড়ার বিষয়ে প্রশাসনের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন ইউএনও ফয়সাল।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রোববার থেকে এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে সাঙ্গু নদী এবং আশপাশের পাহাড়ি ছড়া ও ঝিরিগুলোতে পানির প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে।
ইউএনও বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে ছোট ছোট খাল এবং সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে আপাতত ভ্রমণের বিষয়ে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের এসব এলাকায় না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’
