বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কয়েকজনকে মারধর ও কানধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
চেয়ারম্যানের সহযোগীরা ওই ঘটনা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার কাজলা ইউপি চেয়ারম্যান এএসএম রফিকুল ইসলাম গতকাল সোমবার উপজেলার শাহজালাল বাজার এলাকায় এই অভিযান চালান বলে জানা গেছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাজলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলামও ওই মাদকবিরোধী অভিযানে যোগ দেন।
ভিডিওতে মহিদুলকে দেখা যায় তিনি একজনকে পেটাচ্ছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা বেশ কয়েকজন মাদকসেবী ও বিক্রেতাকে ধরেন। প্রথমে তারা তাদের কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দেন। এরপর তারা আর কখনো মাদক সেবন বা বিক্রি করবেন না—এমন স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাদের লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। পরে তাদের কান ধরে ওঠবস করানো হয়।
একজনকে মাটিতে নাক খত দিতেও দেখা গেছে ভিডিওতে।
চেয়ারম্যানকে বলতে শোনা যায়, কেউ যদি এই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, এ অভিযানের সময় চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ইউনিফর্ম পরা ৪২ বছর বয়সী স্থানীয় এক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করেন। পরে তিনি ও তার সহযোগীরা ওই গ্রাম পুলিশের বাড়িতে যান এবং তার স্ত্রীকেও লাঠি দিয়ে পেটান।
মারধরের সময় দেখা যায় ওই নারীকে চেয়ারম্যান বলছেন, ‘তোমাকে প্রথমবারের মতো ক্ষমা করে দিচ্ছি…।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নারীর এক স্বজন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের কারণে ওই দম্পতি আলাদা থাকেন। তিনি (স্ত্রী) আগে অল্প কিছু “গাঁজা” বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু এখন আর করেন না। তা সত্ত্বেও চেয়ারম্যান সবার সামনে তাকে মারধর করেছেন।’
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি জবাব দেননি, ফোনে মেসেজ পাঠালেও সাড়া দেননি।
পরে আরেকটি নম্বরে ফোন করা হলে তার স্ত্রী রিসিভ করে বলেন, ‘তিনি (ইউপি চেয়ারম্যান) প্রায় আধা ঘণ্টা আগে ঘুমিয়েছেন। ঘুম থেকে উঠলে কল করেছেন জানাব।’ তবে মঙ্গলবার রাত ১১টা পর্যন্ত এরপর তিনি আর যোগাযোগ করেননি।
জানতে চাইলে সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপি নেতা মহিদুল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঘটনার সময় চেয়ারম্যান কিছুটা মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিলেন। ভিড়ের মাঝে আমিও এর মধ্যে জড়িয়ে পড়ি। এটি ভুল হয়েছে। দয়া করে বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’
যোগাযোগ করা হলে সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম আসাদুজ্জামান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি ফেসবুকে ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি ভালো উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে মনে হলেও, কারও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই। আমি বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছি।’
ওসি আরও বলেন, ‘আমি নিজে চেয়ারম্যান রফিকুলের সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনি স্বীকার করেছেন যে এটি ভুল হয়েছে এবং তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি আর এমন রবেন না।’
যোগাযোগ করা হলে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। মাত্রই ভিডিওগুলো দেখলাম। আজই ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠাব।’
‘একইসঙ্গে আজই একটি তদন্ত কমিটি করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে,’ যোগ করেন ইউএনও।
