ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগে টানা ২০ দিন অনশনের পর সামাজিক কর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে গেছে দিল্লি পুলিশ।
৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন। মেডিকেলে ভর্তির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে এই কর্মসূচি পালন করছিলেন।
এএফপি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে ওয়াংচুকের অনশনমঞ্চে কয়েকশ শিক্ষার্থী যোগ দেন। অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টিও এ দাবির সমর্থনে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
দিল্লি পুলিশের এক উপকমিশনার এক বিবৃতিতে বলেন, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার সময় বিক্ষোভকারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ যন্তর-মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শনিবার সকালে যন্তর-মন্তরে ওয়াংচুকের সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এসময় পুলিশ সাদা চাদর হাতে দ্রুত তাকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লির একটি আদালত সরকারি চিকিৎসকদের ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য প্রতিদিন পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, ‘যেকোনো নাগরিকের জীবনই মূল্যবান।’
আইনজীবী ও সমাজকর্মী রাকেশ কুমার সাইনি আদালতে করা এক আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অনশন না ভাঙলে ওয়াংচুকের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দেন, তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রকৌশলী হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ওয়াংচুক হিমালয় অঞ্চলে পানি সংরক্ষণে উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পরিচিত।
পুলিশ তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ওয়াংচুক বলেন, ‘ভারতে এর চেয়েও ছোট ছোট আন্দোলন বহু সরকারকে নতজানু করেছে। আর এখানে বিষয়টি শিক্ষা নিয়ে।’
গত মাসে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আগের পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীকে মেডিকেলে ভর্তির পরীক্ষা পুনরায় দিতে হয়। এ ঘটনা এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা মূল্যায়ন-সংক্রান্ত আরেকটি বিতর্ক দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং তরুণদের আন্দোলনকে উসকে দেয়।
ভারতের বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতা ওয়াংচুক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
