দুই দলের খেলার দর্শন অনেকটা একই রকম। বল পায়ে রেখে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে খেলতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও এই স্পেন দলে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার দারুণ এক মিশেল আছে। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি তাই বলছেন, এই স্পেন দলের সবকিছুই তাঁর জন্য দুশ্চিন্তার কারণ।
ফাইনালের আগে গতকাল নিউইয়র্কে মিডিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন স্কালোনি, অধিনায়ক মেসি ও আরেক সিনিয়র খেলোয়াড় এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানেই ফাইনালের প্রতিপক্ষ স্পেনের প্রশংসা করেছেন স্কালোনি।
স্পেন দলের গুণগত মান বোঝাতে গিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ বলেছেন, ‘স্পেন যখন হোটেল থেকে বের হয়, তখন থেকেই আমার দুশ্চিন্তা শুরু হয়। বাসে উঠে তারা যখন হোটেল ছাড়ে, তখনও আমি চিন্তিত হয়ে পড়ি। ওরা দারুণ একটা দল। স্পেনের সবকিছু নিয়েই আমার দুশ্চিন্তা হয়’।
গত চার আসরের মধ্যে এই নিয়ে তিনবার ফাইনাল খেলছে আর্জেন্টিনা। অপরদিকে ১৬ বছর আগে প্রথম শিরোপা জয়ের পর এই প্রথমবার ফাইনালে স্পেন। এই স্প্যানিশ দলের কারোরই বিশ্বকাপের ফাইনালের রোমাঞ্চের স্বাদ নেয়ার সুযোগ হয়নি আগে। বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর দিক থেকে তাই স্পেনের চেয়ে আর্জেন্টিনারই এগিয়ে থাকার কথা। তবে এমন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে নারাজ স্কালোনি। মেসিদের কোচ মনে করছেন, বিশ্বকাপের ফাইনাল না খেললেও অন্য অনেক বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই স্পেন দল।
স্কালোনি বলেছেন, ‘তাদেরও এমন খেলোয়াড় আছে যারা বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের বড় ম্যাচগুলো খেলেছে। নিজেদের দলের সেরা খেলোয়াড় তারা। ফলে চাপ সামলানোর ব্যাপারে তারা নতুন নয়। যখন মাঠে বল গড়ানো শুরু করে, খেলোয়াড়েরা এসব ভুলে গিয়ে কেবল খেলার প্রতিই মনোযোগী থাকে। ইউরো ও ন্যাশনস লিগের ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা আছে ওদের। আমি মনে করি না আরও একবার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের বাড়তি কোনো সুবিধা দেবে’।
ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে অনেক চড়াই-উৎরাই পারি দিতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। বিশেষ করে তাদের প্রতিটি নকআউট ম্যাচই ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। উল্টো দিকে স্পেন প্রায় সব ম্যাচেই ফেভারিটের মতো খেলে ফাইনালে এসেছে। স্কালোনি বলছেন, প্রতিকূল অবস্থায় ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর দলের কাছে নতুন কিছু নয়, ‘আমাদের সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো আমরা শুরু থেকেই সবসময় কঠিন কন্ডিশনে খেলে এসেছি। আমরা শুধু ফুটবলটাই খেলি, অন্যরা কে কী বলছে তাতে কান দেই না। চাপকে পাশে সরিয়ে রেখে খেলাটা খেলতে জানি আমরা। শুরু থেকে যেটা করে আসছি, ফাইনালেও ঠিক সেটাই করতে হবে আমাদের। ফলাফল কী হবে সেটা নিয়ে না ভেবে স্রেফ নিজেদের খেলাটা খেলে যাওয়া’।
