ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বড় সাফল্য পেয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলা আন্দোলন। তবে এখানেই শেষ নয় বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম মুখ ও সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
তার ভাষায়, ‘এটা কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টিকে অনেক দূর যেতে হবে।’
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে টানা আন্দোলনের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেয় সিজেপি। তবে সংগঠনটির নেতারা বলছেন, আপাতত পূর্ণকালীন রাজনীতিতে নামার পরিকল্পনা না থাকলেও তরুণদের এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চান তারা।
CJP Founder @abhijeet_dipke releases a video thanking everyone who made the huge victory of the youth possible.
He also thanks all critics for helping him improve, and eventually deliver on the promise of the Cockroach Janta Party’s first campaign. #ANewDay pic.twitter.com/1JQNozymLo
আজ রোববার সকালে সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে বলেন, কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের পর অবশেষে তিনি কিছুটা স্বস্তিতে বিশ্রাম নিতে পারছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি ঘুমাতে যেতে পেরেছি এবং নিজের শোবার ঘরে ঘুম থেকে উঠতে পেরেছি—এরপর কী করতে হবে বা সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটবে, তা নিয়ে না ভেবেই।’
৩৭ দিনের আন্দোলনের সময়টিকে ‘খুবই কঠিন’ বলে বর্ণনা করেন দীপকে। তবে সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার পর আর কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানান তিনি।
দীপকে বলেন, ‘এটা কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টিকে অনেক দূর যেতে হবে।’
ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত মে মাসে সিজেপি প্রতিষ্ঠা করেন দীপকে। পরে সেটিই শিক্ষা সংস্কার, বেকারত্ব ও সরকারের জবাবদিহির দাবিতে দেশব্যাপী তরুণদের আন্দোলনে রূপ নেয়।
নিজেদের ‘ককরোচ’ পরিচয় দেওয়া হাজারো আন্দোলনকারী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হন। নিটসহ গুরুত্বপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে জবাবদিহির দাবি জানান তারা।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সংকট এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করে তার পদত্যাগের দাবি তুলেছিলেন আন্দোলনকারীরা। কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের পর তিনি পদত্যাগ করেন। একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর আন্দোলন প্রত্যাহার করে সিজেপি।
পদত্যাগের বিবৃতিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে ‘গভীরভাবে ব্যথিত’ করেছে এবং বিষয়টি তার কাছে ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন নয়’।
Two patients, one victory, all smiles. pic.twitter.com/sACdwrkZE4
তিনি আরও বলেন, তিনি চান না ‘দেশবিরোধী শক্তি’ পরিস্থিতির সুযোগ নিক। দেশের ঐক্য অটুট রাখা, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎও যেন আইনি জটিলতায় আটকে না যায় এবং শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে—এসব নিশ্চিত করতে চান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মেয়াদে জনসমক্ষে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করা দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এর আগে ২০১৮ সালে ‘মি-টু’ আন্দোলনের সময় যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন এম জে আকবর।
সিজেপির আন্দোলন শুরু হয়েছিল গত ২০ জুন। দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের বিক্ষোভ শুরু করে সংগঠনটি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি পূরণ হয়।
আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এবং সিজেপি রাজনৈতিক দলে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সঙ্গে কথা বলেছেন সংগঠনটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস।
পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করছেন কি না—এমন প্রশ্নে রাঙ্কা বলেন, ‘ভারতে কোনো কিছুকেই কখনো “না” বলতে নেই—আমার অন্তত তা-ই মনে হয়।’
তবে আপাতত তার ভাবনায় বিশ্রাম ও পরিবারের কাছে ফেরার বিষয়টিই রয়েছে। রাঙ্কা বলেন, ‘এখন আমার মাথায় একটাই বিষয়—বাড়ি ফিরে ঘুমানো, কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে দেখা করা। গত কয়েক মাস ধরে আমি বাড়ির বাইরে। এখন একটু স্বস্তিতে থাকতে চাই এবং গত দুই মাসে যা ঘটেছে, তা নিয়ে ভাবতে চাই।’
তিনি বলেন, পুরো ঘটনাপ্রবাহ তাদের সবার জন্যই আবেগঘন। ‘এটি গর্বের মুহূর্ত, আনন্দের মুহূর্ত, স্বস্তির মুহূর্ত। এরপর দেখা যাবে কী হয়।’
তবে সৌরভ দাস জানিয়েছেন, এখনই রাজনীতিতে যোগ দেওয়া সিজেপির লক্ষ্য নয়। তাদের অগ্রাধিকার তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করা।
তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের লক্ষ্য একেবারে পরিষ্কার—এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। কারণ দেশে ইতোমধ্যে ৭৫০ থেকে ৮০০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। তাদের কেউই তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারছে না।’
সৌরভ আরও বলেন, ‘আমরা আন্দোলনটিকে তৃণমূলে নিয়ে যেতে চাই, যাতে ক্ষমতায় যে রাজনৈতিক দল বা নেতাই থাকুন না কেন, তারা যেন তরুণদের জন্য কাজ করেন এবং তাদের দাবি পূরণ করেন। আপাতত এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
এদিকে আন্দোলনে পাশে থাকা সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। আন্দোলনের সাফল্য নিয়ে ব্যাপক সংশয় থাকার পরও যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
টাইফয়েড ও জ্বরে আক্রান্ত থাকায় আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণার পর যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়া সবার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে ধন্যবাদ জানাতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন দীপকে।
তিনি বলেন, ‘৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে অপেক্ষা করা প্রত্যেককে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। আপনারা দেশের জন্য যা করেছেন, তার জন্য আমি সত্যিই, সত্যিই, সত্যিই কৃতজ্ঞ।’
এমনকি সমালোচকদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিজেপির এই নেতা। তার মতে, সমালোচকদের প্রশ্ন তাকে নিজের অবস্থান ও কাজের ধরন উন্নত করতে সাহায্য করেছে এবং আন্দোলনের সাফল্যেও ভূমিকা রেখেছে।
দীপকে বলেন, ‘আমার মনে হয়, এ কারণেই আমরা ফল এনে দিতে পেরেছি।’
