সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির গাড়িবহরে ঢিল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে বহরে থাকা একটি গাড়ির কাঁচ ভাঙলেও প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার হলরুমে জুলাই অভ্যুত্থানের ৭ শহীদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা সভায় অংশ নিতে আসেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে বেলা আড়াইটার দিকে কানাইঘাট উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় এনসিপির গাড়িবহর লক্ষ্য করে ঢিল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়।
এদিকে সকাল ১১টা থেকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা এলাকা, চৌমুহনীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। একই সময়ে সেখানে এনসিপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও জড়ো হন।
দুপুর ১টার দিকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর গোলাপগঞ্জ পৌঁছালে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া লোকজন ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। সভা শেষে ফিরে যাওয়ার সময়ও তারা স্লোগান দেন। এসময় গাড়িবহর লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়।
সিলেট জেলা পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার (গোলাপগঞ্জ সার্কেল) বলেন, ‘সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরও একটি ঢিল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙেছে, কিন্তু কেউ আহত হননি। আমরা কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এনসিপির গাড়িবহর নিয়ে কানাইঘাট উপজেলার পথে আছি।’
এ ঘটনায় সারজিস আলম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
পরে বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার পাঁচমাইল বাজারে আবারও বাধার মুখে পড়ে সারজিস আলমের গাড়িবহর। এ সময়ও গাড়িবহরে হামলার চেষ্টা করা হয়।
সারজিস আলম ৩টা ১৩ মিনিটে লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের উপরে আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?’
এএসপি শাহ আলম বলেন, ‘পাঁচমাইল বাজারে যে বাসায় তাদের দুপুরে খাওয়ার কথা ছিল, সেখানে যাওয়ার মুখে তারা বাধার সম্মুখীন হন। পরে গাড়িবহর ফিরে কানাইঘাটের পথে রওনা দেয়।’
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রাস্তায় গাড়িবহরে ঢিল নিক্ষেপ বিচ্ছিন্ন দুটি ঘটনা। এনসিপি নেতৃবৃন্দের গাড়িবহরের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও স্ট্যান্ডবাই আছে। শাবিপ্রবিতে এবং গোলাপগঞ্জে দুটি প্রোগ্রামই শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়েছে। কানাইঘাট এবং ওসমানীনগরের জনসভা আয়োজনে কোন নিরাপত্তার আশঙ্কা নেই।’
