রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় এক ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে তার স্ত্রী ও শাশুড়ি নিহত হয়েছেন।
আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলাবাগানের কিচেন গলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ফারজানা আক্তার রাত্রি (২১) ও তার মা ফিরোজা বেগম (৪০)। এ ঘটনায় রাত্রির স্বামী হৃদয় ওরফে শিপনকে আটক করেছে পুলিশ।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এসময় রাত্রির মা মেয়ের পক্ষ নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিপন প্রথমে তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে শাশুড়িকেও ছুরিকাঘাত করেন।
ওসি জানান, ঘটনাস্থলেই রাত্রির মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ফিরোজা বেগমের স্বামী মো. ফারুক হোসেন বলেন, সকালে তিনি খবর পান, কাঁঠালবাগানের বাসায় মেয়ে ও মেয়ের স্বামী শিপনের মধ্যে ঝগড়া চলছে। বাসায় গিয়ে তিনি মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে এবং স্ত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্ত্রীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, প্রায় ১০ দিন আগে মা-মেয়ে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে গিয়েছিলেন। শুক্রবার এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে শিপনের সঙ্গে রাত্রির বাগবিতণ্ডা হয়। শনিবার রাতে তারা ঢাকায় ফেরেন। রোববার সকালে সেই বিরোধের জের ধরে শিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাত্রিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। ফিরোজা বেগম বাধা দিতে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে শিপন এক বছর বয়সী ছেলে রায়হানকে নিয়ে পালিয়ে যান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকেরা ফিরোজা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করছে কলাবাগান থানা পুলিশ।
