গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে এবং সামনে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় গাজীপুরের দুই শতাধিক ছোট ও সাব-কন্ট্রাক্টিং পোশাক কারখানায় বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার গাজীপুর শিল্প পুলিশের (ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে ফোনে বলেন, মূলত সাব-কন্ট্রাক্টিং এবং ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোতেই এই ছুটি দেওয়া হয়েছে, কারণ গ্যাসের নিম্নচাপের ফলে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।
জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সরকারি ছুটি ছিল। এরপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কারখানা কর্তৃপক্ষ আজ (বৃহস্পতিবার) একদিনের জন্য কারখানা না খুলে টানা তিন দিনের ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বড় বড় কারখানাগুলো আজ পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, কারখানা বন্ধের পেছনে শুধুমাত্র গ্যাসের স্বল্প চাপই একমাত্র কারণ নয়। যারা এই পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি গ্যাস সংকটকে দায়ী করছেন, তাদের তথ্যকে তিনি ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যা দেন।
দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে আগেও বিভিন্ন সময় কারখানাগুলোতে স্বল্পমেয়াদি ছুটি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অবস্থাকে তিনি খুব বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গাজীপুর অপারেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, গাজীপুরে বর্তমানে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
তিনি আরও যোগ করেন, শিল্প, বাণিজ্যিক ও আবাসিকসহ প্রায় সব খাতেই গ্যাস সরবরাহ বর্তমানে বিঘ্নিত হচ্ছে।
