সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী প্রশাসকদের যেসব ক্ষমতা দেওয়া হলো

সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থায়ী প্রশাসক নিয়োগের নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনিন্দিন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন এবং সংকট নিরসনে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রশাসকদের।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ এর অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার অস্থায়ী প্রশাসন সংক্রান্ত প্রবিধানমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করে।

এই প্রবিধান আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩’ এর অধীনে লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রবিধান অনুযায়ী দুইভাবে প্রশাসক নিয়োগ হবে।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬ এর ১৯ ধারার আওতায় আশু সংশোধনমূলক ব্যবস্থার অধীনে কিংবা রেজল্যুশনের অধীনে প্রশাসক বা তার সহযোগী নিয়োগ দেবে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্ট।

প্রশাসক বা সহযোগী নিয়োগের জন্য যোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী এক বা একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া যাবে।

মনোনীতরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়োগ দিতে হবে। এ নিয়োগ ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে হবে। তবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের স্বার্থের কোনো সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) থাকা যাবে না।

এ বিষয়ে প্রবিধানে বলা হয়েছে, কেউ প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার সময় তার সঙ্গে বা তার পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে যদি ওই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, আর্থিক বা অন্য কোনো স্বার্থে থাকে তাহলে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টকে জানাতে হবে।

প্রশাসকের ক্ষমতা

প্রবিধানে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চলমান রাখতে আশু সংশোধনমূলক ব্যবস্থার অধীনে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসক প্রয়োজনে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সরাতে পারবেন এবং নিজে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

প্রশাসককে ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন স্বতন্ত্র নিরীক্ষক নিয়োগ করতে হবে যিনি অস্থায়ী প্রশাসনের আওতায় থাকা অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরূপণ করবেন।

নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী প্রশাসক নিয়োগের তারিখ থেকে ৩ মাস অথবা ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল করতে হবে।

এরপর এক মাসের মধ্যে আর্থিক অবস্থা সংরক্ষণ বা পুনরুদ্ধারের জন্য পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন প্রশাসক। একইসঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা এবং গোপনীয়তা সংরক্ষণ করবেন।

অস্থায়ী প্রশাসকের মেয়াদকালে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নেওয়া সব সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ সম্পর্কিত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

আর, পুনর্গঠন বা রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সম্পদ ও দায় সংক্রান্ত তালিকা তৈরি করে ২ মাসের মধ্যে জমা দিতে হবে প্রশাসকদের।

তালিকা জমা দেওয়ার এক মাসের মধ্যে পুনর্গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় বা বিকল্প সুপারিশ করতে হবে।

প্রবিধানে ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে সন্দেহভাজন আর্থিক অপরাধ তদন্তের দায়িত্বও প্রশাসকদের দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের অধীনে কোনো পরিচালক বা কর্মকর্তা অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হলে অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে আইনি পদক্ষেপ নেবেন প্রশাসক।

গৃহীত সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর অগ্রগতি প্রতিবেদন ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টে দাখিল করতে হবে।

প্রয়োজন হলে ব্যাংকের সব সম্পদ ও দায় এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বা ব্রিজ ব্যাংক বা হস্তান্তরগ্রহীতা বা অবসায়কের কাছে যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা যাবে।

হস্তান্তরগ্রহীতার কার্যক্রম পরিচালনা, সম্পদ ও দায়-দায়িত্ব ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে প্রশাসকদের।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬ এর ২৪ ধারা অনুযায়ী অস্থায়ী প্রশাসনের কার্যক্রম শেষ হওয়ার তারিখ থেকে ৩ মাসের মধ্যে অস্থায়ী প্রশাসনের কার্যক্রমের ওপর চূড়ান্ত প্রতিবেদন ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টে জমা দিতে হবে।

এছাড়া প্রবিধানে আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রশাসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি পরবর্তী কার্যদিবসের মধ্যে নিজেদের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট এবং বহুল প্রচারিত বাংলা ও একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করতে হবে।

নতুন এই প্রবিধানে অস্থায়ী প্রশাসন সংক্রান্ত আগের সব বিধানকে বাতিল করা হয়েছে। তবে, আগের বিধানের অধীনে নেওয়া ব্যবস্থা এই নতুন প্রবিধানমালার অধীনে নেওয়া হয়েছে বলেই গণ্য হবে।

Related Articles

Latest Posts