কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দনালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চকরঘুয়ার চিত্তবিত্ত বালিকা বিদ্যালয় থেকে মনোহরপুর পর্যন্ত এলজিইডির নির্মিত একটি সড়কে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন ও পাথর উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়কের পাশ দেবে গেছে, যদিও এ পথে ভারী যানবাহন চলাচল করে না।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে সড়কটি ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা কাজের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আলাউদ্দিন নগর থেকে চিত্তবিত্ত বালিকা বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে নামতেই সড়কে ছোট-বড় কয়েকটি গর্ত দেখা যায়। এ বিষয়ে ভ্যানচালক জয়নাল বলেন, ‘রাস্তা একবারে ভালো করে বানালে তো ওদের লস। যত ভাঙবে, তত কাজ, তত টাকা।’
কুমারখালী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, সৈকত এন্টারপ্রাইজ কাজটি পায়। পরে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে নন্দনালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান খোকন ও ব্যবসায়ী ইদ্রিস কাজটি কিনে নেন। তারাই মাসখানেক আগে কাজ শেষ করে সড়কটি চলাচলের জন্য খুলে দেন।
তিনি বলেন, সড়কটি সঠিক নিয়মে নির্মাণ না হওয়ায় এখনো কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি। বর্ষা শেষে ঠিকাদারকে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ইদ্রিস বলেন, ‘সামনে নির্বাচন হওয়ায় লোকসান দিয়েও কাজটি করেছি। বিটুমিনসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। এখনো কোনো বিল পাইনি। যতটুকু ক্ষতি হয়েছে, তা আমরা ঠিক করে দেব।’
অন্যদিকে চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান খোকন বলেন, ‘কাজ করেছেন শ্রমিকরা। কাজ তদারকি ও বুঝে নেওয়ার জন্য এলজিইডির প্রকৌশলী ছিলেন। তাহলে কাজ খারাপ হলো কীভাবে? এখন এটি আমাদের জন্যও ভাবমূর্তির সংকট।’
এই সড়কের পাশেই কুষ্টিয়ার বিএনপির প্রভাবশালী নেতা শেখ সাদীর বাড়ি। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গত পরশু ঢাকা থেকে ফিরেছি। রাস্তাটি দেখে প্রথমেই জানতে চেয়েছি, ঠিকাদার কে? আমার বাড়ির পাশের এমন সড়ক দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। কয়েকদিন এখানে আছি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।’
