বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখন থেকে নির্ধারিত ডেবিট, ক্রেডিট বা প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন এবং এনরোলমেন্ট ফি পরিশোধ করতে পারবেন।
এর ফলে কাগজপত্রের ঝামেলাপূর্ণ ‘স্টুডেন্ট ফাইল’ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ফি পরিশোধের প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হবে।
এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফি দেওয়ার জন্য অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো এখন থেকে নির্দিষ্ট কার্ড ইস্যু করতে পারবে বা কার্ড ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এসব কার্ড শিক্ষার্থীর নামে অথবা তাদের শিক্ষার খরচ বহনকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামে ইস্যু করা যেতে পারে।
নতুন এই পেমেন্ট সুবিধাটি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স এবং স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে পেশাদার ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের মতো বিস্তৃত একাডেমিক প্রোগ্রামগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে।
বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন তাদের ওয়েবসাইটে সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার কথা বলে থাকে। মূলত সেই কারণেই এই নতুন পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, এই নতুন সুবিধাটি ভ্রমণ কোটা এবং অন্যান্য সাধারণ বৈদেশিক মুদ্রার খরচ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হিসেবে ধরা হবে।
ভ্রমণ কোটা হলো সেই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, যা একজন বাংলাদেশি নাগরিক এক বছরে ব্যক্তিগত ভ্রমণের জন্য আইনগতভাবে বিদেশে নিয়ে যেতে পারেন। বর্তমানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য এই সীমা ১২ হাজার ডলার।
আগে বিদেশে পড়াশোনার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে শিক্ষার্থীদের সাধারণত একটি আনুষ্ঠানিক এবং কাগজপত্রের জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো।
২০২৫ সালে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবিধান অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের তাদের পুরো কোর্সজুড়ে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন পরিচালনার জন্য একটি নির্ধারিত ব্যাংক শাখায় স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে হতো। এরপর ব্যাংকগুলো সরাসরি বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি পাঠাত।
ব্যাংক টাকা পাঠানোর আগে শিক্ষার্থীদের মূল ভর্তির কাগজপত্র, ফির আনুমানিক হিসাব এবং শিক্ষাগত সার্টিফিকেট জমা দিতে হতো।
ব্যাংকগুলোকে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়া টিউশন ফি এবং থাকা-খাওয়ার হিসাব অনুযায়ী সরাসরি ওয়্যার ট্রান্সফার করতে হতো।
আন্তর্জাতিক কার্ডগুলো আগে শুধুমাত্র জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের জন্য অনুমোদিত ছিল, এবং সেটিও কেবল তখনই যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেসব ফি সরাসরি তাদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিত না।
যে শিক্ষার্থীরা ব্যাংক পরিবর্তন করতে চাইতেন, তারা চাইলেই তাদের অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নিতে পারতেন না। তাদের স্টুডেন্ট ফাইলটি সরাসরি এক ব্যাংক শাখা থেকে অন্য শাখায় স্থানান্তর করতে হতো।
টোফেল বা স্যাট রেজিস্ট্রেশনের মতো কিছু অনলাইন পেমেন্টের জন্য ভার্চ্যুয়াল কার্ড ব্যবহার করা গেলেও মূল টিউশন ফি ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমেই পরিশোধ করতে হতো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, লেনদেনের অনুমতি দেওয়ার আগে ব্যাংকগুলোকে সব প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই-বাছাই করতে হবে। বিশেষ করে মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধের নিয়মসহ প্রচলিত সব বৈদেশিক মুদ্রা আইন যেন সঠিকভাবে মেনে চলা হয়, সেদিকে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।
কার্ডগুলো যেন শুধুমাত্র শিক্ষা-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত হয় এবং পরিশোধ করা অর্থ যেন ঠিক গন্তব্যে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশে পড়াশোনার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত অন্যান্য সব বিদ্যমান নিয়ম আগের মতোই কার্যকর থাকবে। এসব নিয়ম ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে হালনাগাদ করা একটি বিস্তৃত কাঠামোর অংশ, যা বিদেশে টাকা পাঠানোর বিভিন্ন নিয়ম বা নির্দেশিকাকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন নিয়ম যেন যথাযথভাবে পালন করা হয়, তা নিশ্চিতে ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি লেনদেনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত মনিটরিং মডিউলে (সিস্টেমে) জমা দিতে হবে।
