সাকিব ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন কিন্তু নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ: উপদেষ্টা জাহেদ

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান একজন নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

তবে দেশে ফিরলে সাকিব পূর্ণ নিরাপত্তা পাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, ‘সাকিব আল হাসান যদি দেশে আসেন আপনাদের কি মনে হয় যে তিনি নিরাপত্তাহীন থাকবেন? তিনি ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন। কিন্তু একজন নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ।’

‘তার সুনাম আছে—কিন্তু যে মানুষ হাসিনার সঙ্গে থাকেন ফালতু কথা বলেন সরকারকে কিছুটা চাপে ফেলার জন্য। আমি আবারও বলছি তিনি যদি বাংলাদেশে আসেন আইন ও বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য—এয়ারপোর্টে নামলে কি লোকজন তাকে মব করে কিছু করে ফেলবে? তিনি কি সেটা মনে করেন? আমরা কেউ তা মনে করি নো,’ বলেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, ‘যা যা আইনগত ব্যাপার আছে সব মেনে নিয়ে যদি তিনি আসেন আমি কোনো সমস্যা দেখি না। তার প্রত্যেকটা কথা আসলে আমাদের এই সরকারের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা মানে।’

‘যে মানুষটা এখনো হাসিনার সঙ্গে অ্যালাইন (একসুরে) হয়ে কথা বলে…তিনি তো আর হাসিনার চেয়ে বড় অপরাধী না। হাসিনাও যদি বাংলাদেশে আসেন, পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে আসবেন। পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাবেন। পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন বিচারিক প্রক্রিয়ার। তারপর আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটা আমরা সবাই মেনে নেব,’ যোগ করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা হাসিনার মতো মাফিয়া রেজিম এই দেশে আর দেখতে চাই না। এটা ভবিষ্যতেও হতে দেবো না। কোনো ফ্যাসিস্ট-মাফিয়া রেজিম না, এটা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে সবচেয়ে বিভৎস অপরাধীও তার নাগরিক অধিকার যা পাওয়ার কথা সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে, সেটা সাকিব আল হাসান হোক সেটা হাসিনা হোক তারা পাবেন।’

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ প্রধানের ঢাকা সফরের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি চীন থেকে ঢাকায় এসেছেন। এটা তার সফর আমাদের এখানকার কাউন্টার পার্টের সঙ্গে। সরকার যদি মনে করে সফরের পর স্টেটমেন্ট হয়ত দেবে। এটা নিয়ে স্পেকুলেশনের কিছু নেই।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে কথাটা আমরা সবসময় বলি যে প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না, বন্ধু পাল্টানো যায়। আগে যেভাবে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চেয়েছে—একজন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চেয়েছে। সেটা জনগণের সঙ্গে হতে হবে। ভারতের আলাপটা এখন দেখছি তারা জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলছেন।’

‘ভারতের কোনো সংস্থা কোনো প্রতিষ্ঠান আগে যেভাবে বাংলাদেশে কাজ করেছে, যে ধরনের আচরণ করেছে, সেটা হতে পারবে না। ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য থাকতে পারে, আমাদেরও থাকতে পারে। এগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে,’ যোগ করেন তিনি।

Related Articles

Latest Posts