ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ১১ বছরের শিশুর নবজাতক ও অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ১১ বছর বয়সী শিশুর জন্ম নেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ পরীক্ষায় ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, চার্জশিট দাখিলের আগে বিশেষজ্ঞ মতামতের জন্য পাঠানো ডিএনএ প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ও নবজাতকের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে।

সরকারি কৌঁসুলি জানান, মামলাটি আজ আদালতে উপস্থাপনের কথা ছিল। তবে কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় ডিএনএ প্রতিবেদনটি এখন চার্জশিটের সঙ্গে জমা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, মামলাটির শুনানির জন্য আজ দিন নির্ধারিত ছিল। আজকের শুনানিতে অভিযুক্তের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।

আদালতের নির্দেশে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গত ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোম থেকে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। গত ২ জুলাই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ বছর বয়সী শিশুটি ওই কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

এর আগে, গত ১৭ মে অভিযুক্ত আমান উল্লাহর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেন ১১ বছর বয়সী শিশুটির মা। অভিযোগে বলা হয়, আমান উল্লাহ শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন, ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়।

এরপর গত ৭ মে আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ১০ মে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

এদিকে, শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তার মা আদালতে সুরক্ষার আবেদন করেন। পরে ১২ মে আদালত শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Related Articles

Latest Posts