‘চেলসির মূল চালিকাশক্তি আক্রমণভাগের ত্রিফলা’, থ্রিলার জিতে আলোনসো

প্রিমিয়ার লিগে ডাগআউটে অভিষেকের শুরুতেই থ্রিলার উপহার দিলেন জাবি আলোনসো। লন্ডন ডার্বিতে ফুলহামের মাঠে ৩-২ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে চেলসির কোচ হিসেবে অভিষেক রাঙালেন এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড। তবে জয় ছাপিয়ে ম্যাচের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল চেলসির আক্রমণভাগের নতুন রসায়ন। জোয়াও পেদ্রো, মরগান রজার্স ও কোল পালমার—এই তিনজনের দুর্দান্ত বোঝাপড়া দেখে আলোনসো সাফ জানিয়ে দিলেন, আগামীর চেলসি গড়ে উঠবে এই ত্রয়ীকে কেন্দ্র করেই।

সংবাদ সম্মেলনে আলোনসোর চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাসের ছাপ। তিনি বলেন, ‘আমরা যে নতুন চেলসি গড়ার পথে হাঁটছি, সেখানে এই ৩ জনই হবে প্রধান স্তম্ভ। মাঠের লড়াইয়ে ওদেরই মূল দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নিতে হবে, বাকিদের পথ দেখাতে হবে। ওরা যদি নিজেদের সেরাটা দেয়, বাকি দল এমনিতেই ওদের অনুসরণ করবে।’

ম্যাচের শুরুতেই ফুলহামকে স্তম্ভিত করে দেয় চেলসি। খেলা গড়াোর মাত্র ৩১ সেকেন্ডের মাথায় পালমারের বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়ান জোয়াও পেদ্রো। ২০২৩ সালে ম্যানচেস্টার সিটির আঙিনা ছেড়ে ব্লুজদের ডেরায় এসে যে খুনে মেজাজে ধরা দিয়েছিলেন পালমার, এ দিন তাঁকে আবার সেই চেনা রূপেই দেখা গেল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দেনা শোধ করেন পেদ্রো। এবার এই ব্রাজিলীয় তারকার তৈরি করে দেওয়া বল ধরে ফুলহাম গোলরক্ষক বের্ন্ড লেনোর দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান পালমার (৩-১)।

এর আগে ৪১তম মিনিটে ব্লুজদের এগিয়ে নিয়েছিলেন নতুন রজার্স। চলতি দলবদলে অ্যাস্টন ভিলা থেকে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে চেলসিতে নাম লেখানোর পর এটিই ছিল তাঁর অভিষেক ম্যাচ। নীল জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই গোল করে নিজের আগমনী বার্তা জানান দিলেন এই ফরোয়ার্ড।

স্বাগতিক ফুলহামের হয়ে জশ কিং ও গঞ্জালো গার্সিয়া গোল করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়েছিলেন ঠিকই, তবে শেষ পর্যন্ত চেলসির আক্রমণের তোপে পয়েন্ট খোয়াতেই হয় তাদের। পুরো ম্যাচে ১৮টি শটের ৬টিই চেলসি রেখেছিল লক্ষ্য বরাবর। আক্রমণাত্মক ফুটবলের এমন প্রদর্শনী গত মৌসুমে ১০ নম্বর পজিশনে থেকে লিগ শেষ করা চেলসি সমর্থকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করছে।

গত মৌসুমে চোটের কারণে নিজের ছায়া হয়ে থাকা পালমারের জন্য গ্যালারিতে এ দিন আবারও সুর ভেসে এল—সমর্থকেরা উল্লাসে গাইলেন পালমারকে নিয়ে তাদের বানানো গানটি।

শিষ্যকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত আলোনসো জানান, ‘কোলের খেলায় এমন চঞ্চলতা, ব্যাকুলতা ও দায়িত্ববোধ দেখে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। দলের জন্য ও নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করুক, চেলসির এটাই দরকার। কোল যদি এই মেজাজে খেলতে পারে, তবে আমরা আরও শক্তিশালী এক চেলসিকে দেখতে পাব।’

 

অন্য দিকে ফুলহামের কোচেও ছিল নতুন মুখ—আলোনসোর এক সময়ের লিভারপুল ও স্পেন সতীর্থ আলভারো আরবেলোয়া। প্রিমিয়ার লিগে নিজের প্রথম ম্যাচে হেরে গেলেও শিষ্যদের পারফরম্যান্সে গর্বিত তিনি। শুরুর দিকেই গোল হজমে ব্যাকফুটে চলে গেলেও শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক প্রেসিং বজায় রেখেছিল তার দল। অ্যান্টোনি রবিনসনের চিপটি চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজকে পরাস্ত করলেও একটু জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, নয়তো ৩-৩ সমতাতেই শেষ হতে পারত ম্যাচটি।

 

হতাশা চেপে রেখে আরবেলোয়া জানান, ‘আমার ছেলেরা শতভাগ উজাড় করে খেলেছে। সমর্থকদের জয় উপহার দিতে না পারায় খারাপ লাগছে। তবে আমার দলের খেলার স্টাইল এমনই হবে। সামনে প্রতিপক্ষ কে এলো-গেল, তাতে কিছুই যায় আসে না; আমরা আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলে যাব।’

 

Related Articles

Latest Posts