এক যুগ পর স্কুলের বিরুদ্ধে আদালতে কনকাশনে ক্যারিয়ার হারানো পুকোভস্কি

ক্রিকেটের সোনালি ভবিষ্যৎ ভাবা হচ্ছিল তাকে। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের প্রথম ইনিংসে ৬২ রানের চোখধাঁধানো ইনিংস খেলে জানান দিয়েছিলেন নিজের আগমনও। কিন্তু একের পর এক কনকাশন বা মাথায় আঘাত পাওয়ার ধাক্কায় মাত্র ২৭ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে বাধ্য হন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক টেস্ট ব্যাটার উইল পুকোভস্কি। তবে ক্রিকেট ছাড়ার পর এবার এক ভিন্ন লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার পঙ্গু করে দেওয়ার পেছনের প্রথম ধাক্কাটির জন্য সাবেক স্কুল ব্রাইটন গ্রামারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এই অজি ব্যাটার।

অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ২০১৪ সালে স্কুলের অসি রুলস ফুটবল অনুশীলনের সময় মাথায় গুরুতর আঘাত পান তৎকালীন কিশোর পুকোভস্কি। তার আইনজীবীদের দাবি, ওই ঘটনার পর ব্রাইটন গ্রামার স্কুল প্রশাসন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছিল এবং তাদের কর্তব্যে চরম অবহেলা ছিল।

অনুশীলনে মাথায় আঘাত লেগে পুকোভস্কি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। অথচ জ্ঞান ফেরার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাকে আবারো মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়। 

পুকোভস্কি সেই ঘটনা স্মরণ করে বলেন, ‘আঘাত পাওয়ার পর আমাকে বাউন্ডারি লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর শুধু মনে আছে কোচ এসে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি অনুশীলন চালিয়ে যেতে চাও?” আমি বললাম, “হ্যাঁ”। বাস, এরপর পুরো দিন অনুশীলন করে গেলাম। অদ্ভুত শোনালেও ওটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে অভিশপ্ত দিন, কারণ এরপর থেকে আমি আর কখনোই আগের মতো স্বাভাবিক অনুভব করিনি। যে ছেলেটি সবসময় দুরন্তপনায় মেতে থাকত, সে মাসের পর মাস সোফায় বসে অলস সময় কাটাতে বাধ্য হয়েছিল।’

ওই ঘটনার পরদিন থেকেই পুকোভস্কির চোখে ঝাপসা দেখা শুরু হয় এবং সপ্তাহখানেক পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও মাসজুড়ে স্কুল কামাই করতে হয়েছিল তাকে। কিশোর বয়সের সেই প্রথম আঘাতের পর ক্রিকেট ক্যারিয়ারজুড়ে মোট ১৩ বার মাথায় আঘাত পান পুকোভস্কি। ২০২৪ সালের মার্চে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে পেসার রাইলি মেরেডিথের বাউন্সার মাথায় লাগার পর স্বাধীন মেডিকেল প্যানেলের পরামর্শে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হন তিনি।

আন্তর্জাতিক কনকাশন সোসাইটির চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, উঠতি বয়সের অ্যাথলেটদের মস্তিষ্কের বিকাশ পুরোপুরি না হওয়ার কারণে মাথায় আঘাত পাওয়া বা কনকাশন এড়িয়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে তা সারাজীবনের জন্য স্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

এক সময়ের উদীয়মান নক্ষত্র পুকোভস্কির এই আইনি পদক্ষেপ এখন পুরো ক্রীড়াঙ্গনে কিশোর খেলোয়াড়দের সুরক্ষা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

Related Articles

Latest Posts