রেকর্ড ছোঁয়া হালান্ড ও শের্কির নৈপুণ্যে সিটির বড় জয়

আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন রায়ান শের্কি। এবার কোচের আস্থার প্রতিদান দিলেন মূল একাদশে সুযোগ পেয়েই। তার পাশাপাশি আলো ছড়িয়ে জোড়া গোল করলেন আর্লিং হালান্ড। এতে ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠ থেকে অনায়াস জয় নিয়ে ফিরল ম্যানচেস্টার সিটি।

শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিকদের ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে এঞ্জো মারেস্কার দল। টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার চূড়ায় উঠল তারা। অন্যদিকে, টানা দুই হারে আসর শুরু করল প্যালেস।

নিজেদের ডেরায় প্যালেস শুরুতে উজ্জীবিত থাকলেও ম্যান সিটির দাপটের সামনে তা ধোপে টেকেনি। পুরো ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে ৭০ শতাংশের বেশি সময় আধিপত্য ছিল সফরকারীদের। গোলমুখে মোট ১৮টি শট নেয় তারা, যার অর্ধেকই ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে, প্যালেসের নয়বার শট নিয়ে মাত্র একবার গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলতে পারে।

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে রুবেন দিয়াসের বাধা এড়িয়ে দারুণ এক সুযোগ তৈরি করেন এডওয়ার্ড এনকেটিয়া। তার শট রুখে দিয়ে সিটির জাল সুরক্ষিত রাখেন গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। চার মিনিট পর এলিয়ট অ্যান্ডারসনের দূরপাল্লার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন প্যালেসের গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন।

অবশ্য লিড নিতে খুব বেশি সময় লাগেনি সিটির। ১৭তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা অ্যান্টোয়ান সেমেনিওর ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার হালান্ড। এই নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে প্যালেসের বিপক্ষে খেলা ছয়টি ম্যাচের প্রতিটিতেই জালের দেখা পেলেন তিনি। এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে নির্দিষ্ট কোনো দলের বিপক্ষে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার যে রেকর্ড আগে কেবল রহিম স্টার্লিং ও মোহামেদ সালাহর ছিল, এবার সেই অভিজাত তালিকায় নাম লেখালেন হালান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের পুরোপুরি মেলে ধরে সিটিজেনরা। ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে লিড দ্বিগুণ করেন ফরাসি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার শের্কি। ফিল ফোডেনের বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের একাধিক চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে দুইজনের মাঝ দিয়ে নিখুঁত ফিনিশিং দেন তিনি।

তবে দুই মিনিট পরই ভাগ্যের সহায়তায় পাওয়া আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান কমায় প্যালেস। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ইয়েরেমি পিনোর নেওয়া জোরাল ফ্রি-কিক ক্রসবারে আঘাত করে ফেরার পথে দোন্নারুম্মার পিঠে লেগে জালে প্রবেশ করে।

প্যালেসের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৫৯তম মিনিটে শের্কির নৈপুণ্যে ফের গোলের উল্লাস করে মারেস্কার শিষ্যরা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার জোরাল শট প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে সামান্য দিক পরিবর্তন করে জালের ঠিকানা খুঁজে নেয়।

৮২তম মিনিটে অ্যান্ডারসনকে তুলে নিয়ে আইয়ুব বুয়াদ্দিকে মাঠে নামান সিটির কোচ। নতুন ঠিকানায় তরুণ এই মরক্কান মিডফিল্ডারের অভিষেক হলো এই ম্যাচ দিয়ে। এর ঠিক দুই মিনিট পর ইংলিশ মিডফিল্ডার ফোডেনের পাস থেকে বাম পায়ের কোনাকুনি শটে নিজের দ্বিতীয় গোল আদায় করেন হালান্ড। ফলে ম্যান সিটির বড় জয় পাওয়া নিশ্চিত হয়।

Related Articles

Latest Posts