বাঁচার আগে মরার চিন্তা করলে কি লাভ আছে, মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে কোনো ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ। বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার আলোকে উদ্যোগটিকে একটি ‘অনন্য’ ও নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছে ঢাকা।

আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দেশের প্রমাণিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।

মক্কা চুক্তি নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাঁচার আগে যদি মরার চিন্তা করেন, তাহলে লাভ আছে বলেন?’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি অনন্য উদ্যোগ। এগুলো নতুন সুযোগ।’

বর্তমান বিশ্বের অস্থির ও সংকটময় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো দেশকে পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে সমন্বিত ও নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা আমাদের সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রাখব। বাংলাদেশ সারা বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রধান থাকবে, সেখানেই বাংলাদেশের অবস্থান থাকবে।’

জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নতুন কোনো বিষয় নয়।

‘আমরা সারা বিশ্বে এটা করছি। তাহলে আমাদের মুসলিম ভ্রাতৃত্বের জন্য কেন তা করতে পারব না,’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা খারাপ কিছু নয়।

বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক হিসেবে সৌদি আরবের ভূমিকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

মক্কা চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, আলোচনাগুলো ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে। ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে সৌদি আরব ও তুরস্কসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসেনি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশ্বের অন্যতম বড় অবদানকারী দেশ। দেশের সশস্ত্র বাহিনী জাতিসংঘ ব্যবস্থায় অন্যতম বৃহৎ অবদান রেখে আসছে।

‘আমরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছি,’ যোগ করেন তিনি।

কোনো বাধ্যবাধকতার কারণে নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা মূল্যায়ন করেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হয় বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

চীনের সঙ্গে ‘২+২’ সংলাপের প্রস্তুতি

এ সময় চীনের সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ‘২+২’ সংলাপ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে অদূর ভবিষ্যতে এ সংলাপ শুরু হবে। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২+২’ সংলাপ বাংলাদেশের বর্তমান ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব এবং নির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশের কৌশলগত অবস্থানের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ও উন্নয়ন সহযোগী। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় বাংলাদেশ।

এর আগে, রোববার চীনের রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া, সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি জেদ্দায় ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল ও উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনার বিভিন্ন বিষয়ও উঠে আসে এ বৈঠকে।

ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে কাতারের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কুয়েতের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের ‘গুডউইল’ বা সুনাম এখন বেশ দৃশ্যমান উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ইতিবাচক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

Related Articles

Latest Posts