নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে রোববার পর্যন্ত অন্তত ৭৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ৩ হাজার ৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার সর্বশেষ হিসাবে, দেশটিতে ২ হাজার ৫০২ জন নিখোঁজ এবং ৭৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতে ৫৪৬ জন নিখোঁজ এবং ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। শুক্রবার এ সংখ্যা ছিল ৫১৭। তবে কোন দেশের কতজন নিখোঁজ, সে তালিকা হালনাগাদ করেনি নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
চীনা কর্মকর্তাদের হিসাবে, তিব্বতে নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপাল থেকে নেমে আসা নদী থেকে ভারতে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো বন্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মরদেহ বলে ধারণা করা হলেও এখনো মোট মৃতের হিসাবে যুক্ত করা হয়নি।
রোববারের হিসাবে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তালিকায় ১ হাজার ৯১০ জন নেপালি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলায় নিখোঁজ ৫৬২ জন।
নিখোঁজদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৯৩৩ জন, নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৫ সদস্য, ৩৮ জন পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৯ জন শুল্ক ও অভিবাসন কর্মকর্তা রয়েছেন।
চীনের সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে ১০৪ জন নেপালি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, নেপালে ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও ১২৮ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
চীনের অংশে প্রায় ৯০০ ভারতীয় নাগরিক এখনো অবস্থান করছেন। তারা নিরাপদে আছেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে।
তবে তিব্বতে ৪৯ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, প্রায় ৮৫ জন মার্কিন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে নয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। কোনো মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর খবর জানা নেই বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড শুক্রবার ৬৫ জন মার্কিন নাগরিক নিখোঁজ এবং দুজনকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের হিসাবে, তিব্বতে আরও ১৮ জন মার্কিন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাবে, নেপালে ৬১ জন ইউক্রেনীয়, ৫১ জন মালয়েশীয় এবং ৪২ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
ইউক্রেনের দূতাবাস অবশ্য জানিয়েছে, তাদের ৬২ নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের হিসাবে, তিব্বতে একজন ইউক্রেনীয় ও তিনজন মালয়েশীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ৩৩, লাটভিয়ার ২৯, কানাডার ২৫, দক্ষিণ কোরিয়ার ৯, সিঙ্গাপুরের ৯, জার্মানির ৮ এবং রাশিয়ার ৯ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। রাশিয়ার দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের হিসাবে, তিব্বতে যুক্তরাজ্যের ১৫, লাটভিয়ার ৩৩, কানাডার ৬, জার্মানির ৩ এবং রাশিয়ার ৩ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
এছাড়া নেপালে দক্ষিণ আফ্রিকার ৬, জাপানের ৫, নিউজিল্যান্ডের ৫, ফ্রান্সের ৪, স্পেনের ৩, বেলজিয়ামের ২, হাঙ্গেরির ৩, পর্তুগালের ৩, নেদারল্যান্ডসের ২, ইতালির ৩, আয়ারল্যান্ডের ২, কাজাখস্তানের ৩, বেলারুশের ১, ফিনল্যান্ডের ১, ইসরায়েলের ১, লিথুয়ানিয়ার ১, ফিলিপাইনের ১, সার্বিয়ার ১, সুইজারল্যান্ডের ১, সুইডেনের ১ এবং ভিয়েতনামের ১ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের সরকারি সংস্থা, নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড ও চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দেওয়া হিসাবে কিছু পার্থক্য রয়েছে। একই ব্যক্তির বিষয়ে ভিন্ন উৎসে ভিন্ন সংখ্যা থাকায় নিখোঁজের সামগ্রিক হিসাবও পরিবর্তিত হতে পারে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের হিসাবে তিব্বতে নিউজিল্যান্ডের দুজন, ফ্রান্সের দুজন, স্পেনের একজন, হাঙ্গেরির একজন, পর্তুগালের একজন, নেদারল্যান্ডসের দুজন, আয়ারল্যান্ডের দুজন, কাজাখস্তানের একজন, ফিনল্যান্ডের একজন, লিথুয়ানিয়ার একজন এবং এস্তোনিয়ার দুজন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার নিখোঁজ চারজনও এই তালিকায় রয়েছেন।
বড় ধরনের দুর্যোগের পর উদ্ধারকাজ চলতে থাকায় নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা আরও বদলাতে পারে বলে জানিয়েছে এএফপি।
