পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেও উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে চান না জো রুট। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানের বড় জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নেওয়ার পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক সতীর্থদের আহ্বান জানিয়েছেন দায়িত্বশীলভাবে সাফল্য উদ্যাপনের জন্য। মাঠের বাইরের বিতর্ক পেছনে ফেলে এখন দলের ক্রিকেটেই মনোযোগ চান তিনি।
বেন স্টোকস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর আবারও ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়কত্বে ফিরেছেন রুট। তার নেতৃত্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই টেস্টে দাপুটে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথমবারের মতো কোনো একাধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জিতল দলটি।
লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টের শেষ দিনে পাকিস্তানকে মাত্র ১৯৪ রানে অলআউট করে ১৯৪ রানের জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। নতুন চেহারার ইংলিশ পেস আক্রমণের সামনে পুরো ম্যাচেই নড়বড়ে ছিল পাকিস্তানের ব্যাটিং। তবে মাঠের এই সাফল্যের আড়ালেও ইংল্যান্ডের আলোচনায় ছিল দলের সাম্প্রতিক সময়ের একের পর এক মাঠের বাইরের বিতর্ক।
দ্বিতীয় টেস্টের আগে নাইটক্লাবের বাইরে পুলিশের হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় ধরা পড়ার ঘটনায় স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন ইংলিশ পেসার ব্রাইডন কার্স। এর আগেও মদ্যপান ও রাতের পার্টি ঘিরে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা।
নিউজিল্যান্ড সফরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজে ৪-১ ব্যবধানে হারের সময়ও ইংলিশ ক্রিকেটারদের রাতের পার্টি ও মদ্যপান নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। পরে দলের মধ্যে কারফিউ চালু করা হয়। এমনকি গত জুনে লন্ডনের একটি বারে কারফিউ ভাঙার ঘটনায় বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
তবে অধিনায়ক হিসেবে ফিরে রুট সেই কারফিউ তুলে দেন। খেলোয়াড়দের নিজেদের আচরণের দায় নিজেদেরই নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পরও একই বার্তা দিলেন ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
রুট বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যেন এসব নিয়ে কথা না বলি। টেস্ট ম্যাচ জেতা কঠিন, টেস্ট সিরিজ জেতা আরও কঠিন। তাই সাফল্য উপভোগ করুন এবং উদ্যাপন করুন, তবে সেটা বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল বড়দের মতো।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ তাদের পেস আক্রমণ। ওলি রবিনসন, জোফরা আর্চার, জশ টং ও গাস অ্যাটকিনসনের চার পেসারের সামনে দুই টেস্টেই অসহায় ছিল পাকিস্তানের ব্যাটিং। রুট মনে করছেন, এই আক্রমণ ভবিষ্যতে ইংলিশ ক্রিকেটে নিজেদের আলাদা অধ্যায় লিখতে পারে।
‘প্রথমবার অধিনায়কত্বের সময় জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডের মতো কিংবদন্তিদের নেতৃত্ব দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। তবে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয় হলো, এই ছেলেদের নিজেদের উত্তরাধিকার তৈরি করার সুযোগ আছে। ইংলিশ ফাস্ট-বোলিংয়ের ইতিহাসে নিজেদের অধ্যায় লেখার কোনো কারণ নেই, এমনটা আমি মনে করি না,’ বলেন রুট।
ব্যক্তিগতভাবে অবশ্য লর্ডস টেস্টটা খুব একটা ভালো যায়নি রুটের। দুই ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ২৮ রান। সবশেষ সাত টেস্টে নয়বার এলবিডব্লিউ হয়েছেন তিনি। তবু নিজের সামর্থ্য নিয়ে কোনো সংশয় নেই সাবেক এই অধিনায়কের।
টেস্টে ১৪ হাজারের বেশি রান করা রুট সর্বকালের রান সংগ্রাহকদের তালিকায় ভারতের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের পরই আছেন। তাই সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়ে বিচলিত নন তিনি, ‘আমি যে এত রান করেছি এবং এত দীর্ঘ সময় টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পেরেছি, তার কারণ আমি পরিস্থিতি বুঝতে, স্থির থাকতে এবং শেষ পর্যন্ত সমস্যার সমাধান করতে বেশ ভালো। আমি জানি, আমি ভালো খেলোয়াড়। আমার মনে হচ্ছে, বড় একটা ইনিংস খুব কাছেই আছে।’
অন্যদিকে পাকিস্তানের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ব্যক্তিগতভাবে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম লেখানোর আনন্দ পেলেও দলের পারফরম্যান্সে হতাশ। পাকিস্তানের হয়ে ১৫টি টেস্টে এটি ১০ম হার, আর শেষ ২০ টেস্টে ১৫তম পরাজয়।
আব্বাস বলেন, ‘আমাদের পারফরম্যান্স সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয়। সবাই চিন্তিত। আমরা ভালো করছি না, এটা আমরা মেনে নিচ্ছি। ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং কোনোটাতেই ভালো করতে পারছি না। সভাগুলোতেও আমরা এসব নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করি।’
ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৭৭ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিস এবং দুর্বল ফিল্ডিংয়ের খেসারত দিতে হয়েছে তাদের।
আব্বাসের ভাষায়, ‘আমরা ক্যাচ ফেলেছি এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়েরা আরও ৭০-এর মতো অতিরিক্ত রান করেছে। সেখানেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। কারণ আমরা তাদের ২০০ রানের মধ্যেই অলআউট করতে পারতাম। এটা হতাশাজনক।’
